বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সিডনিতে বিক্ষোভ সমাবেশ!
সিডনি, ৫ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রতিক হামলা, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, অবৈধ জেল-জুলুম ও অমানবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ৪ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার দুপুরে সিডনি শহরের প্রাণকেন্দ্র মার্টিন প্লেসে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটি।
চব্বিশটি সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ফোরাম ফর এথনিক অ্যাণ্ড রিলিজিয়াস মাইনোরিটিস ইন বাংলাদেশ (এএফইআরএমবি) এই সমাবেশের আয়োজন করে। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির বহু নারীপুরুষ সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এই প্রতিবাদে অংশ নেন। এ সময় মুহুর্মুহু স্লোগানে মার্টিন প্লেস প্রকম্পিত হয়।
প্রতিবাদ র্যালির শুরুতে এএফইআরএমবি-র অন্যতম পরিচালক অমল দত্ত এই প্রতিবাদের উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট ও সাম্প্রতিক নির্মম ঘটনাবলীর বিবরণ পড়ে শোনান।

২৪টি সংগঠনের সম্মিলিত প্রতিবাদ র্যালিতে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ প্রকাশ, বন্দিমুক্তি ও আশু বিচারের দাবি।
এএফইআরএমবি-র অস্ট্রেলিয়াব্যাপী ২৪টি সংগঠনের উপস্থিত প্রতিনিধিরা জোরালো ভাষায় সংখ্যালঘু নির্যাতনে নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। অন্যান্য প্রদেশ থেকে প্রতিনিধিরা টেলিফোনের মাধ্যমে যুক্ত হন।
তাঁরা বলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু নির্যাতন বাংলাদেশে কখনই থেমে থাকেনি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী – সব সম্প্রদায়ের উপর পৈশাচিক নির্যাতন দিনদিন বাড়ছেই, যা এই সরকারের পেটোয়া মব ও জঙ্গি বাহিনী চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। যার ফলে হিন্দু জনসংখ্যা স্বাধীন দেশেই এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।
বক্তারা বলেন, চিন্ময় প্রভুকে আইন ও বিচারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মিথ্যা অভিযোগে লাগাতার জেলে আটক রাখা, খিলখেতে আরও বহু স্থাপনা রেখে শুধু দুর্গা মন্দির প্রতিমাসহ গুঁড়িয়ে দেয়া, লালমনিরহাটে নরসুন্দর পিতাপুত্রকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা অভিযোগে নির্যাতন ও জেলে বন্দি করা, মুরাদনগরে হিন্দু নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিয়ো ভাইরাল করা, এসব সরকারের ইন্ধনে ও পরোক্ষ সম্মতিতে ঘটছে, যেটা সংখ্যালঘুদের কাছে পরিস্কার। তবে, কীভাবে এসব একটি সভ্য দেশের দায়িত্বশীল সরকার করতে পারে, সেটাই বিস্ময়কর!
বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের এসব ঘটনা অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের সাথে অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বক্তারা অস্ট্রেলিয়ান সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানান।

র্যালি শেষে, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সহিষ্ণু সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ১১ দফা দাবি পেশ পেশ করেন নেতৃবৃন্দ।
র্যালি শেষে, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সহিষ্ণু সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ১১ দফা দাবি পেশ করেন এএফইআরএমবি-র নির্বাহী সভাপতি সুরজিৎ রায়। অন্যতম দাবিগুলো হলঃ
১। অবিলম্বে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে মুক্তি ও মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার।
২। কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের দায়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার ও বিচার।
৩। ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে বৃদ্ধ হিন্দু নরসুন্দর ও তাঁর ছেলেকে হামলায় জড়িত সকলকে গ্রেফতার ও বিচার।
৪। ইস্কন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ মানবাধিকার কর্মীদের হয়রানি বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
৫। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ।
যোগাযোগঃ afermb24@gmail.com
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি