মেলবোর্ন, ৬ জুলাই-
ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বাইরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও টেসলার প্রধান নির্বাহী এই দলকে “মধ্যপন্থী ও যুক্তিবাদী বিকল্প” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা দেশের অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, রাজনৈতিক দুর্নীতি আর জনগণের স্বার্থ উপেক্ষার বিরুদ্ধে কাজ করবে বলে দাবি তার।
শনিবার মাস্ক এই ঘোষণা দেন নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ। এর আগে তিনি এক জরিপে অনুসারীদের কাছে জানতে চান, নতুন রাজনৈতিক দল দরকার কি না। প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পরই মাস্ক ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
মাস্ক বলেন, তার লক্ষ্য সারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নয়, বরং কংগ্রেসে কয়েকটি আসন জিতে এমন অবস্থান তৈরি করা—যা দিয়ে পুরো নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য আনা যাবে। তার ভাষায়, ‘‘কয়েকটি আসনই যথেষ্ট, যেগুলো দিয়ে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।’’
নতুন দল গঠনকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন ‘ফরওয়ার্ড পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু ইয়াং। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় তৃতীয় কোনো দল টিকে থাকা খুবই চ্যালেঞ্জের। কারণ, নিবন্ধন প্রক্রিয়া, প্রচুর অর্থায়ন আর ব্যালটে নাম তোলার মতো নানা ধাপ পেরোতে হয়।
মাস্কের এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা করেছে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকানদের একটি অংশ। তারা মনে করছেন, নতুন দল গঠনের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে কনজারভেটিভ ভোট ভাগ হয়ে যাবে, যা ডেমোক্র্যাটদের সুবিধা করে দেবে। কেউ আবার মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন ও ‘কেটামিন’ সেবনের প্রসঙ্গ টেনে সমালোচনাও করছেন।
এর পেছনে রয়েছে মাস্ক ও ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল। একসময় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন মাস্ক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৭৫ বিলিয়ন ডলারের কর ছাড় ও সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবকে মাস্ক তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। মাস্ক বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণজালে ফেলা হচ্ছে।”
ট্রাম্পপন্থীরা মাস্ককে ‘নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও আক্রমণ করেছেন। মাস্ক পাল্টা বলেন, তিনি কোনো দলের নয়, যুক্তিবাদী ও স্বচ্ছ রাজনীতির পক্ষে। নতুন ‘আমেরিকা পার্টি’র ঘোষণা সেই সম্পর্কের ফাটলকে স্পষ্ট করেছে এবং মার্কিন রাজনীতির জন্য এক নতুন সমীকরণও তৈরি করেছে।