শুধু পরিবর্তন নয়, ‘অত্যাচারীদের হিসাব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি মোদীর
মেলবোর্ন, ১৫ মার্চ- কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিটের ভাষণে…
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই-
কেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আবারও রক্ত ঝরল। সোমবার (৭ জুলাই) ঐতিহাসিক ‘সাবা সাবা ডে’ উপলক্ষে দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৯ জন। এই প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছে মূলত নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেনারেশন জেড’-এর তরুণরা।
বিক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে পুলিশের হাতে ব্লগার অ্যালবার্ট ওজোয়াংয়ের মৃত্যু, সরকারে দুর্নীতি, পুলিশের বেপরোয়া শক্তি প্রদর্শন, এবং ট্যাক্স সংক্রান্ত বিতর্কিত বিল। রাজধানী নাইরোবির রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিল; পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও গুলি চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুধু সোমবারের সংঘর্ষেই নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। জুন মাসে ট্যাক্স বিলে বিরোধিতার সময়ও প্রাণহানি হয়েছিল অন্তত ১৬ জনের। ফলে চলতি আন্দোলন জুড়ে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর সরকারের নানা সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এর মধ্যে পুলিশের লাগামছাড়া শক্তি প্রয়োগও ক্ষোভকে বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার জন্য নতুন প্রজন্মের স্পষ্ট বার্তা।
‘সাবা সাবা ডে’ মূলত ১৯৯০ সালের ৭ জুলাই কেনিয়ার একদলীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতি বহন করে। ৩৫ বছর পর সেই দিনের প্রতীকী বার্তা নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে উঠে এসেছে, যা এখন দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়ানোর ডাক হয়ে উঠেছে।
রয়টার্স, এপি, স্কাই নিউজ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইরোবি সহ বিভিন্ন শহরে সোমবার সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে থাকে। পুলিশ তাদের বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলেন, “আমাদের আর চুপ থাকা চলবে না”, “মানবাধিকার চাই”, “কর কমাও, জীবন বাঁচাও”।
পুলিশ বলছে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগ তুলেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মোড় আনতে পারে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রতি চাপ বাড়ছে; একদিকে অর্থনৈতিক সংস্কার, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও আশা—দুটোকে একসাথে সামলানোই এখন তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সুত্রঃ ডিডব্লিউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au