মহাসাধক বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী: অলৌকিক সাধনা ও বিপন্ন মানুষের পরম আশ্রয়
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও চেতনার দিগন্তে এক ধ্রুবতারার নাম লোকনাথ ব্রহ্মচারী। আধ্যাত্মিকতার এমন এক উচ্চ শিখরে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন, যেখানে অসীম করুণা আর অলৌকিক শক্তির…
ঢাকা, ৮ জুলাই-
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানোর নির্দেশনা সংক্রান্ত হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করা হয়।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এ মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাই কোর্ট এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে আদালত বলেন, জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এখন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
আদালত আরও বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সংবিধানের মূল ভিত্তি, যা বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় সরকারের অধীনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি, ফলে জনগণের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জন্মায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে।
রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা, এবং সংবিধানে সংযোজিত ৭ক, ৭খ ও ৪৪ (২) অনুচ্ছেদকে সাংবিধানিকভাবে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মোট ৫৪টি জায়গায় পরিবর্তন, সংযোজন ও পরিমার্জন আনা হয়েছিল, যার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির বিষয়টিও ছিল।
পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক হাই কোর্টে রিট করেছিলেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন, এবং পরে চূড়ান্ত শুনানির পর এই রায় ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করারও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন, জনগণের ইচ্ছা ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতির জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য, আর সেই উদ্দেশ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এসেছে মূলত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতার অভাব দূর করার প্রয়াস থেকে। ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর দেশে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংযোজন করা হয়। এই ব্যবস্থায় প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিধান রাখা হয়েছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন (১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮) অনুষ্ঠিত হয়, যা তুলনামূলকভাবে অংশগ্রহণমূলক ও তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ হিসেবে স্বীকৃত হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থায় ক্ষমতায় আসা সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা ও নানা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে এ ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
সুত্রঃ কালের কণ্ঠ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au