মহাসাধক বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী: অলৌকিক সাধনা ও বিপন্ন মানুষের পরম আশ্রয়
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও চেতনার দিগন্তে এক ধ্রুবতারার নাম লোকনাথ ব্রহ্মচারী। আধ্যাত্মিকতার এমন এক উচ্চ শিখরে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন, যেখানে অসীম করুণা আর অলৌকিক শক্তির…
ঢাকা, ৯ জুলাই-
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হচ্ছে আজ বুধবার (১০ জুলাই)। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে এই বৈঠকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আলোচনা চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪টি দেশের নেতাদের কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার পরপরই পুনরায় আলোচনা শুরু করা প্রথম দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা আগে প্রস্তাবিত ছিল ৩৭ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হচ্ছে যে, ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ আরও অনুকূল শর্তের দাবিদার। উল্লেখ্য, ভিয়েতনামের রপ্তানি পণ্যের ওপর সম্প্রতি ২০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।
এ অবস্থায় শুল্কের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, যিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। এ ছাড়া বাণিজ্য সচিব ও একজন অতিরিক্ত বাণিজ্য সচিবসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন।
বাংলাদেশ আশা করছে, ২৭ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা থেকে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার ভিত্তিতে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এ প্রেক্ষাপটে মনে রাখতে হবে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের নীতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতিরই অংশ। এই নীতির লক্ষ্য ছিল আমদানি হ্রাস করে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প মনে করতেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশেষ করে চীন, মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলো অন্যায্য বাণিজ্যনীতি প্রয়োগ করছে।
২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন শত শত বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর ১০–২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে, যুক্তি ছিল চীনের বাণিজ্যিক গুপ্তচরবৃত্তি, বৌদ্ধিক সম্পত্তি চুরি ও ভর্তুকির মাধ্যমে অন্যায্য সুবিধা গ্রহণ। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো বিভিন্ন পণ্যের ওপরও শুল্ক বসানো হয়েছিল, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি হিসেবে দেখানো হয়।
সমালোচকরা বলেছেন, এ ধরনের শুল্কের ফলে দেশীয় বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমনকি কৃষিখাতে ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতেও হয়েছে।
তবে ট্রাম্প এই শুল্ককে শুধু অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী বা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বা সংশোধিত বাণিজ্য চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধা আদায় করা যায়।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান দ্বিতীয় দফা বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। উভয় দেশই আশাবাদী যে, সমঝোতার মাধ্যমে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করা যাবে
সুত্রঃ ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au