সাও পাওলোতে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ; ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই-
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৫০ শতাংশ শুল্কের জেরে ব্রাজিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতা। ট্রাম্পের এ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১ আগস্ট থেকে ব্রাজিলের বিভিন্ন প্রধান পণ্য—যেমন কফি, কমলার রস, মাংসসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর এই উচ্চ শুল্ক কার্যকর হবে। ব্রাজিল সরকার এটিকে দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলে আখ্যা দিয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘জনবিরোধী’ বলে কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত একতরফা এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা দেশের কৃষি ও রপ্তানি খাতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। লুলা আরও জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করে, তবে ব্রাজিলও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর একই হারে শুল্ক বসাবে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পরই দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ, গাড়িতে আগুন ধরানো এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পবিরোধী ব্যানার ও স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছে। এই সহিংসতায় ব্রাজিলের অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মূলত দেশীয় ভোটারদের কাছে কঠোর বাণিজ্য নীতির বার্তা দেওয়ার কৌশল। তবে এর মাধ্যমে ব্রাজিলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এদিকে ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে তুলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চায়। তবে প্রয়োজনে ‘পরিপ্রতিক্রিয়া আইন’ অনুযায়ী প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করতে দ্বিধা করবে না।
ট্রাম্পের এই ঘোষণায় শুধু ব্রাজিল নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ এতে ব্রাজিল থেকে আসা কফি, কমলার রস ও মাংসের দাম বাড়তে পারে, যা সরাসরি মার্কিন ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের রাজপথে এখন উত্তপ্ত বাণিজ্য যুদ্ধের ছায়া, যার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারেও। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করবে আগামী সপ্তাহের আলোচনার ওপর।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তিনি। এর পেছনে তার যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতকে ‘অন্যায্য প্রতিযোগিতা’ ও ‘সস্তা আমদানি’ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্ক নীতির মাধ্যমে আমেরিকান শ্রমিক ও উৎপাদকরা উপকৃত হবেন এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ও প্রোটেকশনিস্ট (সংরক্ষণবাদী) অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে এবং ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হতে ট্রাম্প এমন কঠোর বাণিজ্য নীতির কথা বলছেন।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।