আগামী পাঁচ বছরে জাপান এক লাখ দক্ষ কর্মী নেবে বাংলাদেশ থেকে। ছবিঃ প্রতিকী
ঢাকা, ১৩ জুলাই-
দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক থাকা বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি এবার নতুন দিগন্তে পা রাখতে যাচ্ছে জাপানের বাজারে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাপান সফরে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে জাপান এক লাখ দক্ষ কর্মী নেবে বাংলাদেশ থেকে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়— জাপান কখনোই অদক্ষ কর্মী নেয় না, বরং কর্মীর জাপানি ভাষা জানা ও নির্দিষ্ট খাতে দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক।
জাপানের তিনটি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-র স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। শুধু কর্মী নেওয়াই নয়, জাপানি প্রশিক্ষকরা সরাসরি প্রশিক্ষণ দেবেন নরসিংদীর মনোহরদীর টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি)। ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশিক্ষণ শেষে নেওয়া হবে স্পেসিফায়েড স্কিল ওয়ার্কার টেস্ট (এসএসডব্লিউ)। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জাপানে কাজের সুযোগ মিলবে সম্পূর্ণ বিনা খরচে।
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, এতদিন জাপানে জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল মূলত ভাষাজ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতার ঘাটতির কারণে। গত ২০ বছরে মাত্র ৫ হাজার ১৪ জন বাংলাদেশি কর্মী জাপান গেছেন, যার মধ্যে আইএম জাপান প্রকল্পের মাধ্যমে গিয়েছেন ৭০২ জন। প্রতি বছর অনুমোদিত ৯৬টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে কেবল ৩০টিই কার্যকরভাবে কর্মী পাঠাতে পেরেছে।
বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন জানান, এক লাখ দক্ষ কর্মী তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট। জাপান কোন কোন খাতে কর্মী নেবে, কী ধরনের দক্ষতা লাগবে, এসব নির্দিষ্ট তথ্য হাতে এলেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম মনে করেন,
‘এবার যেহেতু জাপানি প্রশিক্ষকরাই সরাসরি প্রশিক্ষণ ও ভাষাশিক্ষা দেবেন, তাই কোটা পূরণের সুযোগ আগের চেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু নতুন কর্মসংস্থানের দরজা খুলবে না, বরং বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞানও বাড়াবে।’
এখন সব দৃষ্টি নরসিংদীর টিটিসিতে শুরু হতে যাওয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও এক লাখ দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার এই বড় চ্যালেঞ্জের দিকে। যদি সফল হয়, তাহলে জাপানে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।