দক্ষিণ সিরিয়ার সুইদা শহরে বেদুইন সুন্নি গোষ্ঠী ও দ্রুজ ধর্মীয় সংখ্যালঘু যোদ্ধাদের মধ্যে এই সহিংসতায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ছবিঃ এএফপি
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই-
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সেনা পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ সিরিয়ার সুইদা শহরে বেদুইন সুন্নি গোষ্ঠী ও দ্রুজ ধর্মীয় সংখ্যালঘু যোদ্ধাদের মধ্যে এই সহিংসতায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩০। তবে যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৩৭।
আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে। গত বছরের শেষে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন সুন্নি ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা দামেস্ক দখল করে নেয় এবং দেশটির ৫৪ বছরের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। নতুন ইসলামী নেতৃত্বাধীন সরকার এখন দেশটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তবে দেশটি এখনও নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, সংঘর্ষ থামাতে ও পরিস্থিতি শান্ত করতে তাদের বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। সুইদার গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন এবং জাতীয় সংস্কারের ডাকের প্রতি সাড়া দিতে বলেছেন।
ধর্মীয় নেতারাও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে নতুন নিরাপত্তা বাহিনী ও দ্রুজ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছিলেন। দ্রুজ ধর্ম শিয়া ইসলামের একটি শাখা, যাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যা লেবানন, জর্ডান ও ইসরায়েলেও রয়েছে। আসাদ সরকারের সময় দ্রুজরা অনেকাংশে নিরবে সরকারের প্রতি অনুগত ছিলেন, যাতে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
এ মাসের শুরুর দিকে দ্রুজ সম্প্রদায়ের কয়েকজন বিবিসিকে জানান, তারা কেবল শারীরিক হামলা নয়, নতুন সরকারের নিরাপত্তার অভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি আলাউইট শিয়া সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দামেস্কের একটি গির্জায় উপাসনারত মানুষদের ওপরও হামলা হয়েছে।
পাশ্চাত্য দেশগুলো সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এ মাসে হায়াত তাহরির আল-শামকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। একই সময়ে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ১৪ বছর আগে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে সফর করা প্রথম ব্রিটিশ মন্ত্রী হয়েছেন।
সুত্রঃ বিবিসি