ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই-
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে গেছে অন্যতম শরিক কট্টর ডানপন্থী দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে)। ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিল প্রণয়নে সরকারের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
এর ফলে ১২০ আসনের ইসরায়েলি সংসদ নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের আসন কমে এখন মাত্র ৬১-তে দাঁড়িয়েছে। এতে সরকার কার্যত টিকে থাকলেও অবস্থান হয়ে পড়েছে অত্যন্ত নড়বড়ে।
ইউটিজের সাত সংসদ সদস্যের মধ্যে ছয়জন ইতোমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর এক মাস আগে পদত্যাগ করেছিলেন দলের চেয়ারম্যান ইৎজাক গোল্ডনফ। ইউটিজে গঠিত হয়েছে দেগেল হাতোরাহ ও আগুদাত ইসরায়েল নামের দুটি উপদল নিয়ে। দেগেল হাতোরাহর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধান রাব্বিদের সঙ্গে আলোচনার পর এবং সরকারের বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জোট গঠনের সময় ইউটিজের মূল শর্ত ছিল ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত করা। ইসরায়েলে সেনাবাহিনীতে যোগদান অধিকাংশ তরুণ ইসরায়েলির জন্য বাধ্যতামূলক হলেও কট্টর ইহুদিরা ঐতিহ্যগতভাবে এই দায় থেকে অব্যাহতি পেতেন। কিন্তু গত বছর সুপ্রিম কোর্ট এ সুবিধা বাতিলের নির্দেশ দেয় এবং সেমিনারি শিক্ষার্থীদেরও সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়।
গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই ইস্যুটি আরও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। নেতানিয়াহু চেষ্টা করেছিলেন জোটের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিলটি পাস করাতে, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি এবং অবশেষে ইউটিজে জোট ছাড়ল।
এখন পর্যন্ত শ্যাস, আরেকটি কট্টর ডানপন্থী দল, জোটে টিকে আছে। তবে তারা ইউটিজের পথ অনুসরণ করলে নেতানিয়াহুর সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে এবং আরও বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে। এ ঘটনায় ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা