জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের নতুন প্রতিবেদনে এমনই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। ছবিঃ ডিডিব্লিউ
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই-
২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১ কোটি ৪৩ লাখ শিশু একটিও টিকা না নিয়েই বড় হচ্ছে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের নতুন প্রতিবেদনে এমনই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। এ সংখ্যা ২০১৯ সালের তুলনায় আরও বেশি, যখন টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শিশুরা একটিও ডোজ পায়নি, অর্থাৎ এরা একেবারেই টিকাদানের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ, রাজনৈতিক সহিংসতা, সামাজিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ডিফথেরিয়া-টিটেনাস-পার্টুসিস (ডিটিপি৩) টিকার কাভারেজ ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশে, যা এক ধরনের অগ্রগতি হলেও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য এখনও এটি যথেষ্ট নয়। একইভাবে, হামের প্রথম ডোজের (এমসিভি১) ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের কাভারেজ ৮৪ শতাংশে পৌঁছালেও, প্রকৃত প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য এই টিকার অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দিতে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচি প্রতিবছর অন্তত ৪৪ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করে এবং প্রতিটি শিশুর জন্য গড়ে মাত্র ১৮ মার্কিন ডলার ব্যয় হয়, যা স্বল্পমেয়াদে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপুল আর্থিক সাশ্রয় আনে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের মতে, টিকাদান শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবামূলক কাজ নয়, এটি সমাজের অর্থনৈতিক উন্নতি ও
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা, সঠিক তথ্যপ্রচারণা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুত্রঃ ডিডব্লিউ