নিমিষা প্রিয়া; ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই-
কেরালার পালাক্কাড় জেলার নার্স নিমিষা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হয়েছে ইয়েমেনের আদালতে, যা এক দীর্ঘ মানবিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল। এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এক করুণ ইতিহাস, প্রেম, প্রতারণা ও শেষ পর্যন্ত এক অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ড।
২০১৭ সালে কাজের সুবাদে ইয়েমেনে থাকা নিমিষা প্রিয়ার সঙ্গে স্থানীয় যুবক মুহাম্মদ আল-খাদিমের সম্পর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, আল-খাদিম তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে গিয়ে নিমিষা ও তার এক বাংলাদেশি সহকর্মী আল-খাদিমকে অজ্ঞান করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বেশি ওষুধ প্রয়োগে মৃত্যু হয় আল-খাদিমের।
২০১৮ সালে ইয়েমেনের আদালত নিমিষা প্রিয়াকে ইচ্ছাকৃত হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। ২০২০ সালে উচ্চ আদালত সেই রায় বহাল রাখে। ইয়েমেনের আইনে নিহতের পরিবারকে ‘ব্লাড মানি’ বা রক্তমূল্য দিয়ে মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর সুযোগ থাকে।
ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কেরালা সরকার, মানবাধিকার সংগঠন ও ধর্মীয় নেতারা এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চালান। ইয়েমেনের ধর্মীয় নেতা শেখ হাবিব উদ্দিন ও ভারতের মুসলিম নেতা কান্থাপুরাম এ পি আবুবকর মুসলিয়ারের মধ্যস্থতায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলে। ভারতে গড়ে তোলা হয় তহবিল, যাতে প্রায় এক কোটি রুপি সমপরিমাণ অর্থ ব্লাড মানি হিসেবে দেওয়া সম্ভব হয়।
ইয়েমেনের আদালত প্রথমে ১৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে নিমিষা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন ঠিক করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতা ও আলোচনার অগ্রগতি থাকায় মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। এখনও সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি, কিন্তু আশাবাদ দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এলো প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও বিদেশের মাটিতে আইনি সহায়তার গুরুত্ব। একদিকে এটি মানবিক বেদনা, অন্যদিকে সরকার ও সমাজের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ—যেখানে জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছুই নেই।
সুত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া