বিক্ষোভের কারণে সুইদা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ, প্রশাসনিক ভবন ও সরকারি স্থাপনা বন্ধ বা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। ছবিঃ ডিডব্লিউ
মেলবোর্ন, ১৬ জুলাই-
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সুইদায় দীর্ঘ কয়েক মাসের টানা সহিংসতা ও বিক্ষোভের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
শনিবার (১৩ জুলাই) এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (SOHR)।
সুইদা প্রদেশ, যা মূলত ড্রুজ সম্প্রদায়ের প্রধান আবাসভূমি, সেখানে গত বছরের আগস্ট থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও সরকারি অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছিল। বিক্ষোভকারীরা শুরুতে অর্থনৈতিক দাবিতে আন্দোলন করলেও পরে তা ক্রমেই রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পদত্যাগ ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিও তোলে।
এসব বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। বিক্ষোভের কারণে সুইদা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ, প্রশাসনিক ভবন ও সরকারি স্থাপনা বন্ধ বা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
সিরিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে নতুন করে সংলাপের সুযোগ করে দেবে। পর্যবেক্ষক সংস্থা ও বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি হয়তো অন্তত কিছুদিনের জন্য সহিংসতা কমাতে ভূমিকা রাখবে, তবে স্থায়ী শান্তির জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য।
সুইদা প্রদেশে বসবাসরত ড্রুজ সম্প্রদায় সংখ্যায় কম হলেও ঐতিহাসিকভাবে সিরিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গৃহযুদ্ধের শুরুর পর থেকে ড্রুজ সম্প্রদায় প্রধানত নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে, তবে সম্প্রতি অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ তাদের সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।
২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ১ কোটিরও বেশি মানুষ। যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং দুর্নীতি দেশটিকে চরম সংকটে ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সুইদায় যুদ্ধবিরতি বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া বা রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে। তবে কেবল যুদ্ধবিরতিই স্থায়ী শান্তি আনবে না, বরং সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সংস্কার, স্থানীয়দের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে।
সুত্রঃ ডিডব্লিউ