বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ছবিঃ আল জাজিরা
ইরাকের পূর্বাঞ্চলের আল-কুট শহরের একটি শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইরাকের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএনএ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও আল আরাবিয়ার খবরে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতভর কুট শহরের ওই হাইপারমার্কেটের পাঁচতলা ভবনে আগুন জ্বলেছে। দমকল বাহিনী ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা না গেলেও স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে ভবন এবং শপিং মলের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আগুনে ভবনের একাধিক অংশ দাউদাউ করে জ্বলছে এবং আকাশমুখে ছড়িয়ে পড়ছে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। মানুষ আতঙ্কে ছুটোছুটি করছে এবং আহতদের চিৎকারে চারদিক ভারী হয়ে উঠেছে।
হতাহতদের অধিকাংশই ওই সময় মার্কেটের ভেতরে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। অনেকে ভবনের ওপরে আটকে পড়েন। এখনও কিছু নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতায় সমস্যা হচ্ছে।
ইরাকে এর আগেও অগ্নিকাণ্ডজনিত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে বাগদাদের একটি কোভিড হাসপাতালের আগুনে প্রায় ৮০ জন মারা গিয়েছিল। ওই ঘটনার পর দেশটির অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এবারের দুর্ঘটনাও সেই পুরনো প্রশ্নগুলো আবার জোরালোভাবে সামনে এনেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, সরকারিভাবে বারবার নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমনপথ ও নিরাপদ নির্মাণ প্রক্রিয়া না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন বারবার ঝুঁকিতে পড়ছে।
বর্তমানে কুট শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতাল ও মর্গে উপচে পড়া ভিড়, চারদিকে কান্না আর হাহাকার। সরকারি পর্যায়ে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে নাগরিকরা চাইছেন এর প্রকৃত বিচার এবং ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ।
সুত্রঃ আল জাজিরা