বিধ্বস্তের পর এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১; ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই-
এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিমানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাপ্টেন ইচ্ছাকৃতভাবে দুইটি ইঞ্জিনেই জ্বালানির প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফলে আকাশে উঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই উভয় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI171-এর ক্ষেত্রে। এটি গত ১২ জুন ভারতের আহমেদাবাদ থেকে যুক্তরাজ্য যাওয়ার পথে থেকে ওড়ার সময় একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪০ জন যাত্রী এবং মাটিতে থাকা ১৯ জনসহ মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়।
রেকর্ডিং বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিমান আকাশে ওঠার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ফুয়েল সুইচগুলো ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’-এ চলে যায়। সহ-পাইলট তখন বিস্মিত হয়ে ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞেস করেন কেন জ্বালানি বন্ধ করা হলো। ক্যাপ্টেন তখন বলেন, তিনি কিছু করেননি। এরপর ইঞ্জিন আবার চালু করার চেষ্টা করা হলেও, তখন বিমানের উচ্চতা ও গতি এতটাই কম ছিল যে তা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার তদন্ত করছে ভারতের এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এখনও এটি প্রাথমিক পর্যায়ের তদন্ত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সময় লাগবে। মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও এতে অংশ নিয়েছে এবং তারা বলছে, বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না।
এই দুর্ঘটনার পর নতুন করে ককপিটে ভিডিও রেকর্ডার বসানোর দাবি উঠেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার কারণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
এই মুহূর্তে তদন্তের মূল ফোকাস ক্যাপ্টেনের আচরণ ও সিদ্ধান্তের ওপর। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আসতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। নিহতদের পরিবাররা ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহি দাবি করছেন, আর পুরো বিষয়টি নিয়ে বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স