রয়টার্সের হাতে আসা পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নোটে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই-
যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের জন্য বিদেশি নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য নিষিদ্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো আর অন্য কোনো দেশের নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য, বিবৃতি বা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিতে পারবে না—যদি না সেটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সুস্পষ্ট ও জরুরি’ পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থের সঙ্গে জড়িত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রয়টার্সের হাতে আসা পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নোটে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এটি বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিতভাবে মত প্রকাশ করে আসছিল।
নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো দেশের নির্বাচনী স্বচ্ছতা বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো মন্তব্য এখন থেকে শুধু পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা দপ্তরের মুখপাত্রই করতে পারবেন। অন্যান্য কূটনীতিকদের তা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করা যাবে না।
নির্দেশনায় ১৩ মে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক ভাষণের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘পশ্চিমা হস্তক্ষেপকারীরা’ এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বলে দেবে না কীভাবে দেশ চালাতে হবে। বরং যুক্তরাষ্ট্র এখন অংশীদারত্ব গড়তে চায়, নীতিনির্ধারণে হস্তক্ষেপ নয়।
ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলেছে, তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে আগ্রহী নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত স্বার্থ যেখানে আছে, সেখানেই অংশীদারিত্ব গড়তে চায়। তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, এই নির্দেশনা ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব’ রক্ষার ওপর প্রশাসনের গুরুত্ব প্রদর্শন করে।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে এসব ইস্যুতে আগ্রহ কমেছে। প্রশাসনের মতে, এসব মূল্যবোধের নামে অনেক সময় রাজনৈতিক পক্ষপাত দেখা দেয় এবং দেশটির মানবাধিকার শাখা ‘বামপন্থী কর্মীদের’ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যারা রক্ষণশীল সরকারবিরোধী অভিযান চালায়।
নতুন এ নির্দেশনা ভবিষ্যতে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভূমিকা ও অবস্থানকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী নেতৃত্বের জায়গায় বড় ধরনের নীতিগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স