এই অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে অনেকেই এবার যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন বাতিল করে জার্মানি, কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই-
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভারতের হাজার হাজার উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী। হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরের শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতারা বলছেন, এবছর বিদেশগামী ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এই সংকটের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট ফ্রিজ থাকা, হঠাৎ করে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়া এবং যথাযথ সময়মতো কোনো নিশ্চিত বার্তা না পাওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।
হায়দরাবাদের ‘ওভারসিজ কনসালটেন্ট’-এর এক কর্মকর্তা সঞ্জীব রায় বলেন, সাধারণত এই সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর ইন্টারভিউ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এবার প্রতিদিন অনলাইনে ভিসা স্লট খোলা হয় কি না, তা দেখেই দিন কাটছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছিল, পর্যায়ক্রমে ভিসা স্লট ছাড়া হবে, বাস্তবে সেই প্রক্রিয়ায় কোনো স্বচ্ছতা না থাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কেউ কেউ স্লট বুক করেও পাচ্ছেন না কনফার্মেশন। ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার স্পষ্ট কোনো কারণও জানানো হচ্ছে না, এমনকি আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নেতিবাচক বিষয় না থাকলেও তারা বাদ পড়ছেন।
এই অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে অনেকেই এবার যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন বাতিল করে জার্মানি, কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ ভিসার দেরিতে হতাশ হয়ে আবেদনই তুলে নিচ্ছেন, যাতে করে পুরো এক বছর পড়াশোনার ক্ষতি না হয়।
ভিসা প্রক্রিয়ার এই ভঙ্গুরতা সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়ে পরামর্শদাতা অরবিন্দ মন্দুভা বলেন, “আগামী কয়েকদিনে যদি নতুন কোনো স্লট ছাড়া না হয়, তাহলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে যাবে। অভিভাবকরা প্রতিদিন আতঙ্কিত হয়ে ফোন করছেন।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ভারত চীনকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিল। ভারত সরকারের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন, যার মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বর্তমান এই সংকট শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিচ্ছে, আর এতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বমানচিত্রে গন্তব্য পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
সুত্রঃ এনডিটিভি