শুক্রবার ভোর থেকে সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার হামলার খবর পাওয়া গেছে। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২০ জুলাই-
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সুইদা শহরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়ার পরও সেখানে নতুন করে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) ভোর থেকে সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার হামলার খবর পাওয়া গেছে। সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাহিনী এবং স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই লড়াই চলছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
সুইদা শহর ও আশপাশের অঞ্চলে মূলত সিরিয়ার একটি সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় দ্রুজদের বসবাস। সম্প্রতি এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ে। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের অভিযোগ তুলে দ্রুজরা প্রতিবাদ শুরু করলে সরকারপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে।
গত সপ্তাহে দুই দফায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শুক্রবার আবারও গোলাগুলি শুরু হয়, যার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হতে পারেননি। শহরের ভেতরে ও চারপাশে গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মর্টার হামলায় বহু বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংঘর্ষে ঠিক কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, অনেক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। শহরের হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
সিরিয়ার সরকার এক বিবৃতিতে সবাইকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতেই অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুইদায় চলমান এই সংঘাত পুরো সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর আবারও সহিংসতা শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সিরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে এবং বলেছে, দ্রুত অস্ত্রবিরতি কার্যকর করে রাজনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া জরুরি।
সুত্রঃ রয়টার্স