‘জাপানিজ ফার্স্ট’ এখন আরও ছোট ছোট জাতীয়তাবাদী ও স্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই-
জাপানে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যকে সামনে রেখে একটি নতুন কট্টর-ডানপন্থী দল ‘জাপানিজ ফার্স্ট’ বা ‘Sanseito’ এবারের উচ্চকক্ষ (হাউস অব কাউন্সিলরস) নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। আগে মাত্র একটি আসন ছিল দলটির, এবার তারা পেয়েছে ১৪টি আসন। এই সাফল্য জাপানের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন শক্তির উত্থান ঘটিয়েছে।
দলটি গঠিত হয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির সময়, মূলত ইউটিউব ও অনলাইন মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে। তখন থেকেই তারা ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য, অ্যান্টি-ভ্যাক্সিন ও অভিবাসনবিরোধী মতাদর্শ প্রচার করতে থাকে। নিজেদের পরিচয় দেয় “Japanese First” বা ‘জাপান আগে’—এই মূলমন্ত্রে তারা বিশ্বায়ন ও বহুসাংস্কৃতিকতার বিরোধিতা করে।
দলের নেতা সোহেই কামিয়া, যিনি একসময় একজন ইংরেজি শিক্ষক ও ব্যবসায়ী ছিলেন, নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন—“আমি বলছি না সব বিদেশিদের তাড়িয়ে দিতে হবে, কিন্তু আমাদের আগে নিজেদের নিরাপত্তা ও সংস্কৃতির কথা ভাবতে হবে।” তিনি মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও শৈলীতে অনুপ্রাণিত।
এই নির্বাচনে দলটি তাদের বার্তাকে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে কিছু সাংস্কৃতিক মুখ ও নারী প্রার্থীকে সামনে এনেছে। টোকিওতে জয়ী হয়েছেন জনপ্রিয় গায়িকা Saya। এর ফলে দলটি জাতীয়তাবাদী বার্তার পাশাপাশি একটি অপেক্ষাকৃত মানবিক মুখও জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
যদিও জাপানের বেশিরভাগ ভোটারদের কাছে অভিবাসন বড় ইস্যু নয়—এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ, তারপরও এই দলটির উত্থান প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। শিগেরু ইশিবার নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও তার মিত্ররা উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইশিবা জানিয়েছেন তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ছেন না, তবে তার নীতিতে কিছুটা বাঁক এসেছে—অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছেন তিনি।
‘জাপানিজ ফার্স্ট’ এখন আরও ছোট ছোট জাতীয়তাবাদী ও স্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। তাদের লক্ষ্য, আগামীতে ৫০ থেকে ৬০টি আসন পাওয়া এবং সরকার গঠনে সরাসরি প্রভাব রাখা। তারা শুধু বিরোধী দলের ভূমিকায় নয়, বরং একটি জাতীয় শক্তি হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
দলের উত্থান ও বার্তা জাপানের রাজনীতিতে এক গভীর বিভাজন তৈরি করেছে। অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও বিশ্বায়নের প্রশ্নে দেশটির রাজনীতি যে আরও রক্ষণশীল পথে অগ্রসর হচ্ছে—এই নির্বাচনের ফলাফল তারই বড় প্রমাণ।
সুত্রঃ রয়টার্স