ভারতের উপরাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন জগদীপ ধনখড়; ছবি: এএনআই
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই-
ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় হঠাৎ করেই পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২১ জুলাই) রাতে তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। নিজের পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
পদাধিকারবলে ধনখড় ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। সোমবার ছিল সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন। সকাল ১১টায় তিনি যথারীতি রাজ্যসভায় উপস্থিত হয়ে অধিবেশনের সূচনা করেন। তবে শুরু থেকেই বিরোধীরা জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগাম কাণ্ড ও সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আলোচনার দাবি জানাতে থাকেন। তিনি বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডাকে কথা বলার সুযোগ দেন। পরে উত্তেজনার মধ্যে সভা দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করে ধনখড় সভা ত্যাগ করেন। এরপর তিনি আর অধিবেশনে ফেরেননি।
রাতে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ধনখড় লেখেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এবং তাঁর পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর করার অনুরোধ জানান। তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদির নিরবিচ্ছিন্ন সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছেন, যা তাঁর জন্য ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
তিনি আরও লিখেছেন, সংসদ সদস্যদের উষ্ণতা, আস্থা ও স্নেহ তাঁর মনে চিরকাল অমলিন থাকবে এবং এই সময়টিতে ভারতের যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে তা প্রত্যক্ষ করতে পারা ছিল তাঁর জীবনের এক সৌভাগ্য ও তৃপ্তির বিষয়।
জগদীপ ধনখড় ভারতের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিক, আইনজীবী এবং প্রাক্তন বিচারপতি, যিনি ২০২২ সালের আগস্টে দেশের উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। রাজস্থানের এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া ধনখড় আইনপেশায় সাফল্যের পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হন এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রাজস্থান বিধানসভাতেও সদস্য ছিলেন।
আইন ও সাংবিধানিক বিষয়ের ওপর তাঁর গভীর জ্ঞান তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছে দেয়। ২০১৯ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ পান এবং সেই সময় রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তাঁর কঠোর অবস্থান ও স্পষ্ট বক্তব্য তাকে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন বিতর্কিত সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। তাঁর কর্মজীবনে আইন, রাজনীতি ও প্রশাসনের নানা দিক স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০২৫ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথ ভারতীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
সুত্রঃ এএনআই