ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন; ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই-
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন করে শান্তি আলোচনায় বসছে দুই দেশ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার (২৩ জুলাই) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে তিনি ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভের সঙ্গে সোমবার রাতে এক বৈঠকে বসেন।
জেলেনস্কি তাঁর ভাষণে বলেন, উমেরভ তাঁকে জানিয়েছেন যে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তুরস্কে আরেকটি বৈঠক হবে বুধবার। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএ সূত্র জানিয়েছে, বুধবারের পর বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবারও আলোচনা চলতে পারে।
তুরস্ক সরকারিভাবে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বুধবার ইস্তাম্বুলে আলোচনা হবে। এর আগেও মে এবং জুন মাসে দুই দফা আলোচনা এই শহরেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যদিও তখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
এবারের আলোচনাও মূলত চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন মেরুতে রয়ে গেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুই পক্ষ এখনো সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে রয়েছে এবং বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা আপাতত নেই। তাঁর মতে, এখনো অনেক কাজ বাকি।
উল্লেখ্য, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় সেনাদের জন্য নতুন অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ৫০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি না হলে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এই হুমকির কয়েকদিন পরেই জেলেনস্কি নতুন করে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দেন।
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পুতিনের আচরণ তাঁকে হতাশ করেছে, তবে তিনি এখনো আশা ছাড়ছেন না।
এএফপির বরাতে জানা গেছে, ইস্তাম্বুলের আলোচনায় বন্দিবিনিময়ের পাশাপাশি জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে মস্কোর পক্ষ থেকে শিগগির কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
সবমিলিয়ে, এ সপ্তাহের আলোচনা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে বিশ্ববাসী। তবে ফলাফল কী হবে, তা নির্ভর করছে কতটা ছাড় দিতেই রাজি দুই পক্ষ।
সুত্রঃ এফপি