ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম সপ্তাহেই ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প চালু করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই-
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন কক্ষপথে স্যাটেলাইট নির্ভর ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির জন্য নতুন অংশীদার খুঁজছে।ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে বিরোধের জেরে তারা অ্যামাজনের ‘প্রজেক্ট কুইপার’ ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের দিকে ঝুঁকছে।
স্পেসএক্সের স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড নেটওয়ার্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এককভাবে তাদের ওপর নির্ভরতা নিয়ে হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষা দপ্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়। গত ৫ জুন ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে প্রকাশ্যে বিবাদের পর এই বিকল্প খোঁজার গতি আরও বাড়ে।
স্পেসএক্সের দক্ষতা ও ৯ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অভিজ্ঞতার কারণে তারা এখনও বড় ভূমিকা রাখছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন অ্যামাজনের ‘প্রজেক্ট কুইপার’, রকেট ল্যাব, স্টোক স্পেসসহ নতুন উদ্যোক্তাদেরও আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। কুইপার ইতোমধ্যে মাত্র ৭৮টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলেও তারা প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে ধরা হচ্ছে।
‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্পটি ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’-এর আদলে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে যাওয়া বৃহত্তর এবং জটিল স্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার জন্য হাজার হাজার স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হবে।
স্পেস ফোর্স ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট পরিষেবা কেনার জন্য কংগ্রেস থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ পেয়েছে। এ ছাড়া ট্রাম্পের ব্যাপক ট্যাক্স ও খরচ বিলের আওতায় আরও ২৫ বিলিয়ন ডলার আসছে, যা দিয়ে স্যাটেলাইট প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে।
এ প্রকল্পে লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান, এল-থ্রি হ্যারিসের মতো প্রথাগত বড় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোকেও যুক্ত করা হচ্ছে। তারা স্যাটেলাইট থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের মতো প্রযুক্তিতে কাজ করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু স্টার্টআপকেও প্রাথমিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
স্পেসএক্স ছাড়াও ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ পালানটিয়ার এবং আন্দুরিলের মতো সংস্থাগুলিও শুরুতে এগিয়ে থাকলেও মাস্ক-ট্রাম্প দ্বন্দ্বের ফলে প্রতিযোগিতার চেহারা বদলে যাচ্ছে। মাস্ক সম্প্রতি ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন, যার লক্ষ্য ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকানদের প্রতিহত করা।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম সপ্তাহেই ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প চালু করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সেনেট অনুমোদিত স্পেস ফোর্স জেনারেল মাইকেল গেটলাইনকে প্রকল্পের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। তিনি আগামী ১২০ দিনের মধ্যে পূর্ণ পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে কুইপারের মতো বেসরকারি প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হলে সাইবার হামলা ও বৈদ্যুতিক যুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর মতো নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জও তৈরি হবে। স্পেসএক্স এর আগেও রুশ হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে বড় ধরনের রিসোর্স ব্যয় করেছে বলে জানিয়েছিল।
গোল্ডেন ডোম শুধু একটি প্রতিরক্ষা প্রকল্প নয়; এটি মহাকাশ প্রতিযোগিতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ রূপও নির্ধারণ করতে পারে। এর কার্যকর বাস্তবায়ন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে মহাকাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স