খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- খুলনা মহানগরীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু (৩৬) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর দৌলতপুর…
মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- ভারতের কলকাতায় জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) নিয়ে আতঙ্কে পড়া এক প্রবাসী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্ক এলাকার আনন্দপল্লী পশ্চিমে নিজ ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় দিলীপ কুমার সাহা (৬৫) নামের ওই ব্যক্তির মরদেহ। বিষয়টি সামনে আসার পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি এনআরসির আড়ালে ‘সাসপিশিয়াস ইন্ডিয়ান রেজিস্ট্রার’ (এসআইআর) চালুর গুজব ও আশঙ্কায় দিলীপ সাহা চরম উদ্বেগে ছিলেন। তিনি আশঙ্কা করতেন, তাঁকে বাংলাদেশি প্রমাণ করে ফেরত পাঠানো হবে। এই ভয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বলেন, তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘‘আমার বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যদি পুশব্যাক করে দেয়? কোথায় যাবো আমি?’’
জানা যায়, দিলীপ সাহা ১৯৭২ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে কলকাতায় আসেন। এরপর কলকাতার একটি বেসরকারি স্কুলে চাকরি নেন এবং পরিবার নিয়ে রিজেন্ট পার্ক এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ওই এলাকায় স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিকে নিয়ে বাস করছিলেন। তাঁর ছয় বোনও বাংলাদেশ থেকে এসেছেন এবং সবার জীবন গড়ে উঠেছে কলকাতাতেই।
রোববার সকালে দিলীপ সাহার স্ত্রী তাকে ঘুম থেকে ডাকার চেষ্টা করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের বাড়ি থেকে ভাগ্নিকে ডেকে আনেন। পরে দরজা ভেঙে দেখা যায়, দিলীপ সাহা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এলেও তা দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নেয়। তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের এক সদস্যের ভিডিওসহ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বিজেপিকে দায়ী করে। সেখানে বলা হয়, “বিজেপি সরকারের এনআরসি আতঙ্কেই আত্মহত্যা করেছেন দিলীপ সাহা। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যেভাবে বাঙালিদের ওপর ভয় দেখানো হচ্ছে, তাদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তাতে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দিলীপ সাহার মৃত্যু সেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরই নির্মম পরিণতি।”
তৃণমূলের পোস্টে আরও লেখা হয়, “বিজেপি একটা বাংলা-বিরোধী দল। ওরা বাঙালিদের শেষ করে দিতে চায়। বৈধ কাগজপত্র থাকলেও ভয় ধরিয়ে, জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকি দিয়ে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত করে তুলেছে।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “দেশে কেউ আত্মহত্যা করলেই সব এনআরসি আতঙ্ক বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। তাহলে শাসক দলের এত নেতা-কর্মী যাঁরা রোজ মারা যাচ্ছেন, তাঁরা কী আতঙ্কে মরছেন? এটা নিছকই রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা।”
এনআরসি ও এসআইআর ইস্যু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি এই ইস্যুতে তাদের পরিকল্পনা কী। তবে এই আত্মহত্যার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের জনমানসে নতুন করে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী নির্বাচনের প্রাক্কালে এনআরসি ইস্যু আরও বেশি করে রাজনৈতিক তোপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au