দেশটির প্রায় ৫০ লাখ জনসংখ্যার বেশিরভাগই বিদেশি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- কুয়েত সরকার সম্প্রতি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। দেশটির প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সউদ আল সাবাহ জানান, কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে বহু ‘প্রতারক’ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সব নাগরিকত্বের নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যেখানে সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরাও তদন্তের আওতায় আছেন। শিগগিরই নতুন ইলেকট্রনিক জাতীয়তা সনদ চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।
এই অভিযান মূলত সেই বিদেশিদের বিরুদ্ধে, যারা অবৈধভাবে কুয়েতের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নাগরিকত্ব যাচাই কমিটি এসব মামলার বৈধতা পরীক্ষা করছে। এ বছর অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে। কুয়েত দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না, অর্থাৎ কুয়েতের নাগরিকত্ব নিতে হলে আগের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়। দেশটির প্রায় ৫০ লাখ জনসংখ্যার বেশিরভাগই বিদেশি।
সরকার বলছে, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া নাগরিকত্ব বাতিল করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তবে কিছু ক্ষেত্রে ‘রাষ্ট্রের উচ্চ স্বার্থে’ও নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে। কুয়েতে বাবার নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্তানের মধ্যে যায়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মনোনীত কমিটির মাধ্যমে বিদেশিদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।
সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক আগে কুয়েতের উন্নয়নে অবদান রাখা অসংখ্য বিদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। তবে নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার রাষ্ট্রহীন ‘বেদুইন’ জনগোষ্ঠীর সমস্যা, যা রাজনৈতিক ও আইনগত জটিলতার কারণে এখনো সমাধানহীন।
সুত্রঃ আল জাজিরা