রাহুল গান্ধী নিজের বাসভবনে সাতজন এমন ভোটারকে আমন্ত্রণ জানান, যাদের নাম ভুলভাবে মৃত হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ছবিঃ এনডিটিভি
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বিতর্কের মাঝেই বিহারের ‘মৃত’ ঘোষণা করা ভোটারদের সঙ্গে চা পান করলেন ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তোলার পর দুদিনের মধ্যেই তিনি নিজের বাসভবনে সাতজন এমন ভোটারকে আমন্ত্রণ জানান, যাদের নাম ভুলভাবে মৃত হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
কংগ্রেসের প্রকাশ করা এবং রাহুলের সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন নারী ও তিনজন পুরুষকে স্বাগত জানিয়ে তাদের হাতে চা তুলে দিচ্ছেন রাহুল। দীর্ঘ টেবিলে বসে সবার সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। মজার ছলে রাহুল বলেন, “শুনলাম, আপনারা আর বেঁচে নেই?” জবাবে একজন বলেন, “আমাদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।”
একজন ভোটার জানান, ভোটার তালিকা পরীক্ষা করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার নাম মৃত তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ভিডিওতে রামইকবাল রায়ের ভোটার আইডিও দেখানো হয়, যেখানে ১৯৫৯ সালের জন্মতারিখ ও তার বাবার নাম উল্লেখ আছে। আরেকজন বলেন, পঞ্চায়েতের অন্তত ৫০ জনের এমন অবস্থা। যদিও তারা সবাই একই বুথের ভোটার নন, বরং বিভিন্ন বুথে নাম ছিল।
অভিযোগকারীদের একজন জানান, নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা তার বাড়িতে এসে আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবইয়ের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছিলেন, অথচ পরে তাকে মৃত ঘোষণা করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়া বিহারের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবকে হারানোর জন্য চালানো হয়েছে।
রাহুল তাদের উদ্দেশে বলেন, “আরজেডি ও কংগ্রেস মিলে আমরা এটা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। বন্ধ করে দেব, ভোট চুরি হতে দেব না।” এক্স-এ ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, “জীবনে মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে চা খাওয়ার সুযোগ হয়নি। এই অভিজ্ঞতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ।”
প্রসঙ্গত, ৭ আগস্ট রাহুল গান্ধী সংবাদ সম্মেলনে ভোট চুরির অভিযোগ আনেন। এর জবাবে নির্বাচন কমিশন তাকে প্রমাণ হাজির করতে বলে এবং অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে ক্ষমা চাইতে বলে। কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা গত রোববার ভোট চুরি অভিযোগের বিষয়ে রাহুলের কাছ থেকে নথিপত্র চেয়েছেন।
সুত্রঃ এনডিটিভি