বেতন বাড়ানোর দাবিতে কেবিন ক্রুদের ডাকা ধর্মঘট। ছবিঃ বিবিসি
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- বেতন বাড়ানোর দাবিতে কেবিন ক্রুদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে কানাডার সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা এয়ার কানাডা। এতে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এয়ার কানাডার সাশ্রয়ী সেবা প্রদানকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠান এয়ার কানাডা রুজ-এর ফ্লাইটও স্থগিত থাকবে। তবে যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিকল্প কোনো এয়ারলাইন্সের টিকিট নিশ্চিত না করে যেন বিমানবন্দরে না আসেন।
স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ৫৮ মিনিট থেকে ধর্মঘট কার্যকর হয়। এর আগেই এয়ার কানাডা তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে শুরু করেছিল। ধর্মঘট চলাকালে প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি ফ্লাইট বাতিল হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে বিশ্বের ১৮০টি শহরে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে এয়ার কানাডা। তবে এয়ার কানাডা জ্যাজ, পিএএল এয়ারলাইনস ও এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের ফ্লাইটগুলো ধর্মঘটের বাইরে থাকবে।
বেতন কাঠামো নিয়ে মূলত এ আন্দোলন। কেবিন ক্রুরা অভিযোগ করছেন, তাদের কেবল উড়োজাহাজ আকাশে ওঠার সময়ের জন্য বেতন দেওয়া হয়। ফ্লাইটের আগে যাত্রী ওঠানো কিংবা ফ্লাইটের মাঝে অপেক্ষার সময়ে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। এসব সময়ের জন্যও বেতন দাবি করছেন তারা।
এয়ার কানাডা জানিয়েছে, চার বছরের জন্য কেবিন ক্রুদের ৩৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম বছরেই ২৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে শ্রমিক সংগঠন কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পাবলিক এমপ্লয়িজ (সিইউপিই) বলছে, এ প্রস্তাব মূল্যস্ফীতি ও বাজারমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ধর্মঘট এড়াতে দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। এ মাসের শুরুতে সিইউপিই–এর ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ সদস্য ধর্মঘটের পক্ষে ভোট দেন। কানাডার কর্মসংস্থানমন্ত্রী প্যাটি হাজডু শ্রমিক ইউনিয়ন ও এয়ার কানাডাকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইউনিয়নের দাবি, তারা আট মাস ধরে আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসলেও এয়ার কানাডা সরকারের সালিসি প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি