বিশ্ব

গাজায় নতুন সামরিক অভিযান শুরুর আগে ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা ডেকেছে ইসরায়েল

  • 6:50 am - August 21, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৩৬ বার
ইসরায়েলি অভিযানে গাজা প্রায় ধ্বংস। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- গাজা শহরে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। এ উদ্দেশ্যে ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা ডাকার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার রিজার্ভ সদস্যের দায়িত্বকাল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) এ তথ্য জানায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ গাজার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নতুন ধাপের অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন। আইডিএফ জানায়, এখনো যেখানে সেনারা প্রবেশ করেনি এবং হামাস সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে অবস্থান নেবে সেনারা। বর্তমানে গাজার জেইতুন ও জাবালিয়া এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে তারা, যা বৃহত্তর সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, এই অভিযানের ফলে গাজায় মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত, বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং খাদ্যসংকটে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলি এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, গাজা শহর হামাসের মূল সামরিক ও প্রশাসনিক ঘাঁটি। সেনারা মূলত হামাসের বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু করবে। যদিও হামাসের বহু শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছে, সংগঠনের কিছু অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং ইসরায়েলে রকেট হামলা চালাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই নতুন অভিযান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন, যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্ত করা এবং হামাসসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন যেন আর কখনো ইসরায়েলকে হুমকি দিতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

তবে এই অভিযানের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন করে আরও বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। নেতানিয়াহু আগেই জানিয়েছিলেন, এ অভিযান গাজার কেন্দ্রীয় শিবির এবং শহরের বিভিন্ন অংশজুড়ে চলবে। এখানে এখনো লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো টিকে আছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অনেক রিজার্ভ সেনা ও জিম্মিদের পরিবার সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তাদের অভিযোগ, সরকার রাজনৈতিক কারণে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বর্তমানে গাজায় অন্তত ৫০ জন জিম্মি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে ২০ জন বেঁচে আছেন বলে বিশ্বাস করা হয়।

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও পুরোপুরি হামাস ধ্বংসের লক্ষ্যকে অবাস্তব বলে মনে করছেন। শিন বেতের সাবেক প্রধান ইয়োরাম কোহেন বলেন, “যদি কেউ কল্পনা করে যে আমরা প্রতিটি সন্ত্রাসী, প্রতিটি গর্ত, প্রতিটি অস্ত্র ধ্বংস করতে পারব এবং একই সঙ্গে জিম্মিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পারব—তাহলে সেটা একেবারেই অসম্ভব।”

 সুত্রঃ এমএসএন নিউজ

এই শাখার আরও খবর

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে কূটনীতির নতুন ধারা চান বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন ধরনের কূটনৈতিক কৌশল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল…

সিলেটে হিন্দু মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জকিগঞ্জে নিজ বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের…

নেপালের মতো ভয়াবহ বন্যা আরও হতে পারে, সতর্কতা জলবায়ু বিশেষজ্ঞের

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে আরও উষ্ণ গ্রীষ্ম, ভয়াবহ দাবানল, খরা ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার…

সাভারে পুলিশের এসআইকে পিটিয়ে হত্যা

ঢাকার সাভারে দুর্বৃত্তদের হামলায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেন নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত…

হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট

ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…

২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার পূর্বাভাস

২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক দাঙ্গা ও গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ‘চীনা নস্ট্রাডামুস’ নামে পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিয়াং জুয়েকিন। তার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au