যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- গাজায় চলমান যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতির একটি ভালো, চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটবে।” কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন অতীতেও একাধিকবার যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্প বলেন, “এটি শেষ হতেই হবে, কারণ ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অবরোধ আর ধারাবাহিক হামলার কারণে মানুষ নির্মমভাবে মারা যাচ্ছে। প্রাণহানি প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।”
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন প্রস্তাব কার্যকর হলে তা জাতিগত নিধন বা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

২৭শে মে, ইসরায়েল থেকে দেখা যাচ্ছে উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের একটি দৃশ্য। ছবিঃ রয়টার্স
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির এমনকি জাতিসংঘ পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গাজার ২৩ লাখ মানুষ ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এটিকে “২১শ শতকের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়” বলে উল্লেখ করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তিনি ক্ষমতায় না থাকায় বাস্তবে তাঁর মন্তব্য কতটা কার্যকর প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
আল জাজিরা