মেলবোর্ন, ২৯ আগষ্ট- ঢাকায় ‘মঞ্চ ৭১’-এর আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং কোটি মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান আজ ক্ষতবিক্ষত। অথচ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হচ্ছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছেন।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এমন এক পরিস্থিতিতে মঞ্চ ৭১-এর প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্নার উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক চলছিল। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। এ সময় উগ্র মব সৃষ্টি করে বৈঠকে হামলা চালানো হয় এবং মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না ও অধ্যাপক মেসবাহ কামালসহ প্রায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করা হয়।
শিক্ষকরা দাবি করেন, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিভ্রান্তিকর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের সঙ্গে এ হামলার যোগসূত্র রয়েছে। তারা বলেন, “এই হামলা কেবল ব্যক্তিবিশেষের ওপর নয়, বরং জাতির আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।”

পুলিশ হেফাজতে লতিফ সিদ্দিকী। ছবিঃ সংগৃহীত
প্রগতিশীল শিক্ষকরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আটক ব্যক্তিদের দ্রুত শর্তহীন মুক্তি দাবি করেন। বিবৃতিতে অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, নিম চন্দ্র ভৌমিক, মো. আখতারুল ইসলাম, জিনাত হুদা ও মো. আনোয়ারুল ইসলামসহ আড়াই শতাধিক শিক্ষক স্বাক্ষর করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় বাংলাদেশের রাজধানীতে অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে। ছবিঃ সংগৃহীত
অন্যদিকে, গোলটেবিল বৈঠক থেকে আটক সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনসহ ১৫ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির নবনিযুক্ত প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।