জরুরি রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে এআই
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ৩ সেপ্টেম্বর- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চীন বুধবার রাজধানী বেইজিংয়ে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই আয়োজনে শুধু ইতিহাসের স্মরণ নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা, সামরিক সক্ষমতা ও কূটনৈতিক প্রভাবের এক বড় বার্তা নিহিত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত।
কুচকাওয়াজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশে উপস্থিত থাকবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। এদের অনেকের ওপরই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, এই চার নেতার উপস্থিতি এক ধরনের ‘চতুর্ভুজ জোট’-এর ইঙ্গিত বহন করছে, যাকে তারা আখ্যা দিচ্ছেন ‘অস্থিরতার অক্ষ’ (Axis of Upheaval)।

প্যারেডের আগে প্রস্তুতি। ছবি: রয়টার্স
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর বেশিরভাগই এই আয়োজন বর্জন করেছে। শুধুমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এবং সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুসিক উপস্থিত থাকবেন। ফলে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠছে চীন, রাশিয়া এবং গ্লোবাল সাউথের সংহতির প্রতীকী মঞ্চ।
কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হবে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং হাইপারসনিক অস্ত্র। আশা করা হচ্ছে, নতুন কয়েকটি অস্ত্রও উন্মোচিত হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো ডিএফ-২৬ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা পারমাণবিক বা প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। চীনা গণমাধ্যম এটিকে ইতিমধ্যেই “গুয়াম কিলার” বলে আখ্যা দিয়েছে।

একসাথে ইউরোপ-এশিয়ার বিশ্বনেতারা, দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন ট্রাম্প। ছবিঃ রয়টার্স
এছাড়া প্রদর্শিত হতে পারে নতুন জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইং জি’ (Eagle Attack), যা যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা থেকে বিরত রাখতেই নকশা করা হয়েছে বলে দাবি বেইজিংয়ের।
কুচকাওয়াজের আগে চীনা গণমাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পিপলস ডেইলিতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে চীনের অবদানকে পশ্চিমা শক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করেছে। তাই এই অনুষ্ঠান চীনের জন্য নিজেদের অবদান পুনরায় তুলে ধরার একটি সুযোগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা ও কমিউনিস্ট পার্টির শক্তিকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিম চুয়ান-টিওং বলেন, “অনুষ্ঠানে আসা নেতারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস উদযাপন করতে আসছেন না, তারা আসছেন চীনকে সমর্থন জানাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে।”
বিশ্ব রাজনীতির জটিল সময়ে এই কুচকাওয়াজ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কয়েক দিন আগে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে অংশ নিতে চীনে এসেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সময়ে এই আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—“তোমরা কুচকাওয়াজ করতে পারো, কিন্তু আমরা তা সবার চেয়ে বড় ও প্রভাবশালীভাবে করতে পারি।”
সব মিলিয়ে, বেইজিংয়ের এই বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ নিছক প্রদর্শনী নয়। এটি বর্তমান বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যেখানে চীন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে তারা শুধু অর্থনৈতিক পরাশক্তিই নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিকভাবেও বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্রে জায়গা নিতে প্রস্তুত।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au