জুমার নামাজের পর তৌহিদী জনতা নুরাল পাগলের দরবারে হামলা চালালে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুইজন নিহত হন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের মরদেহ কবর থেকে তুলে এনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর তৌহিদী জনতা নুরাল পাগলের দরবারে হামলা চালালে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুইজন নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৩ আগস্ট গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরাল পাগলের মৃত্যুর পর তাকে কাবা শরীফের আদলে নির্মিত প্রায় ১২ ফুট উঁচু এক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ দাফন ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে তৌহিদী জনতা বিক্ষোভ শুরু করে।
আজ শুক্রবার স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে সমাবেশের পর বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে দরবারে হামলা চালায়। এ সময় দরবারের ভক্তরা পাল্টা প্রতিরোধে নামলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা কবর থেকে নুরাল পাগলের মরদেহ তুলে এনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন অন্তত ২২ জন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মাসুদ। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে তিনজন স্বেচ্ছায় ফরিদপুর মেডিকেলে চলে গেছেন।
ঘটনার সময় উত্তেজিত জনতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও পুলিশের একটি পিকআপও ভাঙচুর করে। বর্তমানে গোয়ালন্দে সেনা সদস্যসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, আশির দশকে নুরাল পাগল নিজ বাড়িতে দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেকে ইমাম মাহদী দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল।