বিশ্ব

ইসরায়েলের হামলায় গুঁড়িয়ে গেল গাজা নগরীর বহুতল ভবন, জাতিসংঘের আশঙ্কা

  • 3:32 am - September 07, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১০৭ বার
বহুতল ভবন সুসি টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে আছেন অসহায় এক ফিলিস্তিনি। ছবি: এএফপি

মেলবোর্ন ,৭ সেপ্টেম্বর- ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে ইসরায়েলের নতুন হামলায় ধসে পড়েছে একটি বহুতল আবাসিক ভবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভবনটিতে কয়েকটি বেসামরিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। শনিবারের এই হামলার আগে গাজা নগরীর মানুষকে দক্ষিণে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।

গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় শহর গাজা নগরীতে গত মাস থেকে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। আকাশপথে তীব্র হামলার পাশাপাশি উপকণ্ঠে স্থল অভিযানও শুরু হয়েছে। এতে আগেই বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

শনিবারের হামলায় ধ্বংস হওয়া ১৫ তলা সুসি রেসিডেনশিয়াল টাওয়ারটি গাজার অন্যতম বড় আবাসিক ভবন ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাঁদের চোখের সামনেই মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়েছে ভবনটি। ইসরায়েল দাবি করেছে, ওই ভবনে হামাস গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাত এবং সেনাদের ওপর নজরদারি করত। তাই ভবনটি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তারা বলছে, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ধ্বংস হওয়া ভবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।”
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, গাজার আরও বহুতল ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। গতকালই আরেকটি বহুতল ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরতে বলা হয়েছিল।

গাজা নগরীর বাসিন্দাদের উদ্দেশে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচে আদ্রাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আল–মাওয়াসি এলাকায় সরে যেতে বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সেখানে গেলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে খাবার, তাঁবু, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়া হবে।

তবে ফিলিস্তিনিরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই এলাকাতেই অতীতে একাধিকবার বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। ৪৮ বছর বয়সী আবদেল নাসের মুসতাহা বলেন, “কেউ বলছেন পালাতে হবে, আবার কেউ বলছেন না। কারণ গাজার প্রতিটি জায়গায়ই বোমা পড়ছে। আল–মাওয়াসি নামের কথিত মানবিক এলাকাতেও দেড় বছর ধরে হামলা চালানো হচ্ছে।”

শুধু আজকের হামলাতেই অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৩ মাসে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, ইসরায়েল যদি গাজা নগরী দখলের অভিযান চালিয়ে যায়, তবে সেখানে ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ তৈরি হবে।

জাতিসংঘ–সমর্থিত প্রতিষ্ঠান আইপিসি গত মাসেই গাজা নগরীতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে। বর্তমানে এ নগরী ও আশপাশে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি আটকা রয়েছেন। অধিকাংশই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

বাসিন্দা নাসের মুসতাহার মেয়ে ২০ বছরের সামিয়া মুসতাহা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, “আমরা কোথায় যাব? বোমা অথবা অনাহার—মৃত্যু তো আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।”

সূত্রঃএএফপি

এই শাখার আরও খবর

এইচএসসির ফল প্রকাশ শনিবার, জানা যাবে যেভাবে

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর)। ওই দিন বেলা ১১টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে…

৯ মাসে নির্যাতনের শিকার ২ হাজার ১৭১ নারী ও কন্যাশিশু

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২ হাজার ১৭১ জন নারী ও কন্যাশিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড…

ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড, কারচুপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নতুন রেকর্ড গড়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশটির ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা…

লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, অসুস্থ ৪১ জন

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭৪ বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এ ছাড়া সাগরপথে আটক হওয়ার পর ৩৬ জনকে দেশটির রাজধানী ত্রিপোলির তাজৌরা…

গতি বেড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’, এগিয়ে এলো উপকূলে আঘাত হানার সময়

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ গতিবেগ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের উপকূলে আঘাত হানার সময় এগিয়ে এসেছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা…

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর শেষ বিদায়েও বাধা: আমরা কোন বাংলাদেশের পথে?

​বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো আকস্মিক প্রাপ্তি নয়। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ, অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। ১৯৭১…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au