জরুরি রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে এআই
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন, আর মুক্তিযোদ্ধারা সেই ইতিহাসের গর্বিত নায়ক। তাঁদের প্রতি কোনো অসম্মান কিংবা মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার সুযোগ কখনোই দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক কর্নেল শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আগেও আমরা যেভাবে সশ্রদ্ধ সম্মান করেছি, আজও করি এবং ভবিষ্যতেও অন্তরের অন্তস্তল থেকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করবো। কোনো ‘মব’ বা কোনো কিছু করে মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার কোনো সুযোগ নেই।”
ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে মব হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে মব নিয়ন্ত্রণ করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
কর্নেল শফিকুল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মবের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। দেশের যেকোনো প্রান্তে যখনই মব সৃষ্টি হয়েছে, সেনাবাহিনী দ্রুততার সঙ্গে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছে শুধুমাত্র তথ্য পেতে দেরি হওয়ার কারণে।”
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী এককভাবে কাজ করে না। সেনারা ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারের মাধ্যমে গ্রেপ্তার বা আটক করে আইনের হাতে তুলে দিতে পারে, তবে কাউকে সাজা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। এ কাজে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
রাজবাড়ীতে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলার’ মরদেহ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া এবং দরবারে হামলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। কর্নেল শফিকুল জানান, সেনাবাহিনী দেরিতে খবর পায়। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয়ে রাত ১১টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
সম্প্রতি কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও সেনাবাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে তিনি জানান।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি। তবে নির্বাচন কমিশন থেকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেনাবাহিনী তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক মাসে সেনাবাহিনী ৬৫টি অবৈধ অস্ত্র ও ২৯৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে হারানো ১২ হাজার ১১৯টি অস্ত্রের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৭৯৪টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া হারানো ২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৫৯ রাউন্ড গোলাবারুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশও উদ্ধার হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৯২৬ জনকে বিভিন্ন অপরাধে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। শুধু গত এক মাসেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ২৯৪ জনকে।
কর্নেল শফিকুল ইসলাম পুনর্ব্যক্ত করেন, মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দ্রুততার সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au