তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান চীনের
মেলবোর্ন,২ জুলাই- তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর- ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান প্রকাশ করেছেন গভীর উদ্বেগ ও আফসোস, যে কারণে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তিদের সহায়তা করতে তিনি এবং তার সংস্থা সব সময় কার্যকরভাবে সক্ষম হননি। সম্প্রতি মার্কিন সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান বলেন, প্রতি সপ্তাহে হাজারখানেক মানুষ আত্মহত্যার আগে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। “যদি তাদের মধ্যে কাউকে থামানো যেত, সেটিই এখন আমার সবচেয়ে বড় আফসোস,” তিনি যোগ করেন।
অল্টম্যান একটি উদাহরণ তুলে ধরেন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। অল্টম্যানের অনুমান, যদি তাঁদের মাত্র ১০ শতাংশ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় দেড় হাজার ব্যবহারকারী আত্মহত্যার আগে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন,
“হয়তো আমরা কিছু ভালো বলতে পারতাম, হয়তো আরও সক্রিয় হতে পারতাম।”
তবে এই উদ্বেগ শুধু তাত্ত্বিক নয়। সম্প্রতি এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনায় তার পরিবার চ্যাটজিপিটিকে দায়ী করে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অল্টম্যান একে ‘একটি মর্মান্তিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো সম্ভব করার ওপর সংস্থাটি গবেষণা করছে।
অল্টম্যান জানান, কানাডা ও জার্মানির মতো দেশগুলোতে যেখানে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহায়তা আইনগতভাবে অনুমোদিত, সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি নির্দিষ্ট অপশনগুলো উল্লেখ করতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন,
“মডেলটি কখনোই কোনো মতবাদ চাপাবে না বা নৈতিক সিদ্ধান্তে মূল্যায়ন করবে না। প্রাপ্তবয়স্কদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত, তবে নিরাপত্তা নিয়ে কিছু স্পষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি।”
তিনি আরও জানান, ওপেনএআইয়ের সিদ্ধান্ত প্রণয়নে নৈতিক বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টাদের মতামত নেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি ও বোর্ড একত্রে নেন। অল্টম্যান বলেন,
“এই বিষয়ে দায়ী যিনি, তিনিই আমি।”
সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান আরও উল্লেখ করেন, চ্যাটজিপিটি কেবল ব্যবহারকারীর জীবন সংক্রান্ত বিষয়ে নয়, মানুষের লেখালেখিতেও সূক্ষ্ম প্রভাব ফেলছে। তিনি মজার ছলে বলেন,
“এমনকি চ্যাটজিপিটির লেখার ছন্দ বা কাঠামোও মানুষের লেখালেখিতে ঢুকে পড়ছে।”
তিনি যোগ করেন, এ ধরনের সূক্ষ্ম পরিবর্তনই তাকে চিন্তিত রাখে—এটি কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক রোবট বিপ্লবের চেয়ে অনেক গভীর এবং বাস্তবপ্রভাবশালী।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au