তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান চীনের
মেলবোর্ন,২ জুলাই- তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে দুই রাষ্ট্র সমাধানের লক্ষ্যে “স্পষ্ট, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এবং অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ” নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এক ঘোষণাপত্রকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪২টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, ১০টি দেশ বিপক্ষে এবং ১২টি দেশ বিরত থাকে।
ঘোষণাপত্রটি মূলত জুলাইয়ে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফল, যা আয়োজন করেছিল সৌদি আরব ও ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই সম্মেলন বর্জন করেছিল।
আসন্ন ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও বেলজিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাত পৃষ্ঠার এই ঘোষণায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলাকে নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে গাজায় বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলের হামলা, অবরোধ ও ক্ষুধামৃত্যুর নীতিকে নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, এসব কারণে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও সুরক্ষা সংকট তৈরি হয়েছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো মন্তব্য করেন, এ প্রস্তাব আন্তর্জাতিকভাবে হামাসকে একঘরে করেছে। তিনি বলেন, “আজ প্রথমবার জাতিসংঘ একটি প্রস্তাবে হামাসকে তার অপরাধের জন্য নিন্দা জানিয়ে আত্মসমর্পণ ও নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছে।”
গালফ আরবভুক্ত সব রাষ্ট্র প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এটিকে প্রত্যাখ্যান করে। তাদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, পলাউ, পাপুয়া নিউগিনি, প্যারাগুয়ে ও টোঙ্গাও বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।
ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, গাজার যুদ্ধ “অবিলম্বে শেষ হতে হবে” এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই ভোটকে “ভুল সময়ে নেওয়া এক প্রচারমূলক প্রদর্শনী” আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি বাস্তব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে। মার্কিন কূটনীতিক মরগান ওর্তাগাস সাধারণ পরিষদে বলেন, “এটি হামাসের জন্য একটি উপহার ছাড়া কিছুই নয়। এই সম্মেলন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করেছে, হামাসকে উত্সাহিত করেছে এবং শান্তির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”
ইসরায়েলও ঘোষণাপত্রকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে নাকচ করে দিয়েছে। দেশটির জাতিসংঘ দূত ড্যানি দানন বলেন, “এর একমাত্র সুবিধাভোগী হামাস। যখন সন্ত্রাসীরা উল্লাস করে, তখন তা শান্তি এগিয়ে নেওয়া নয়, বরং সন্ত্রাসকে শক্তিশালী করা।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক। এছাড়া প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। অন্যদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহত হয়েছে ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au