জরুরি রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে এআই
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর- টানা কয়েক দিনের অস্থিরতা, রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ আর ব্যাপক সহিংসতার পর নেপাল এখন এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের মুখোমুখি। শুক্রবার রাতে শপথ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তিনি এখন এক আলোচিত নাম, কারণ দেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বনেতারাও তাঁর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ আন্তর্জাতিক পরিসরের একাধিক নেতা কার্কির প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
শনিবার সকালে দায়িত্ব গ্রহণের পরই সুশীলা কার্কি তাঁর কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথমেই তিনি রাজধানীর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টার ও সিভিল সার্ভিস হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। চিকিৎসকদের কাছ থেকে আহতদের অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এদিকে প্রশাসনিক কাজেও তিনি সমানভাবে মনোযোগী। বিক্ষোভের সময় সিংহ দরবারে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুরনো কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া টেবিল, চেয়ার, সোফা, কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সেনাবাহিনী ও কর্মীরা নতুন ভবনে স্থানান্তর শুরু করেছেন। সিংহ দরবারের উত্তর-পশ্চিম অংশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য তৈরি নতুন ভবনে এখন তাঁর কার্যালয় প্রস্তুত করা হচ্ছে।
শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অফিস পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।
দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকালে কাঠমাণ্ডুতে গণপরিবহন পুনরায় চালু হয়। বাস, ট্যাক্সি ও সরকারি যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফেরে।
কাঠমাণ্ডু ভ্যালি ট্রাফিক পুলিশ অফিসের মুখপাত্র এসপি দীপক গিরি জানান, শনিবার সকাল থেকে শহরের ভেতরে যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে আন্তজেলা পরিবহন শনিবার সন্ধ্যা থেকে চলাচলের অনুমতি পাবে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বেশির ভাগ এলাকায় কারফিউ প্রত্যাহার করা হলেও কাঠমাণ্ডুর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখনও বিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে সিংহ দরবার, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়সহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অন্তর্ভুক্ত।
নেপালের সাম্প্রতিক সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটস, ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টসসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থা নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুশীলা কার্কির দায়িত্ব নেওয়া নেপালের রাজনীতিতে একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা। নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সহিংসতা কমতে শুরু করেছে এবং প্রশাসন স্বাভাবিক হওয়ার পথে। তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে নির্ভর করবে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা এবং জনগণের আস্থার ওপর।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au