বিশ্ব

কাতারের বিপদে পাশে থাকলো না যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা

  • 2:28 pm - September 15, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১০০ বার
ট্রাম্পকে স্বাগত জানাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর- মধ্যপ্রাচ্যের খনিজসমৃদ্ধ ছোট্ট দেশ কাতার ইসরায়েলি হামলার শিকার হলেও পাশে পেল না যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো ঘনিষ্ঠ মিত্রকে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের এই হামলার সময় যেমন, তেমনি পরবর্তীতেও মার্কিন প্রশাসন কার্যত নীরব থেকেছে। কাতার যে দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত, সেই দেশটিরই সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ওয়াশিংটন।

কাতার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নিরপেক্ষ ও মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছে। ফিলিস্তিন–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিসহ নানা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দোহা মধ্যস্থতার ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে বৈশ্বিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে দেশটি। তবু হামলার সময় দেখা গেল কাতার কার্যত একা। আরব প্রতিবেশীরাও নীরব থাকায় প্রশ্ন উঠছে—কাতারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আসলেই কতটা কার্যকর?

২০১৭ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাকে একঘরে করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২১ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও, সাম্প্রতিক হামলার সময় আবারও দেখা গেল কেউই কাতারের পাশে দাঁড়ায়নি। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কাতারে ঘাঁটি থাকা যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশও মুখ খুলতে নারাজ।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি ইসরায়েলি হামলাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে সম্মিলিত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এখনো তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বদর আল-সাইফ সিএনএনকে বলেন, “এখনই ব্যবস্থা না নিলে অন্য দেশগুলোকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় সৌদি আরব, কাতার ও আমিরাতের সঙ্গে তিন ট্রিলিয়ন ডলারের চুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এত অর্থনৈতিক ও সামরিক ঘনিষ্ঠতা থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাতারের হামলার জবাব দিতে চাইছে, কিন্তু হাতে সুযোগ খুবই সীমিত। এদিকে আমিরাতের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করা হলে তা হবে ‘আব্রাহাম চুক্তি’র প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।

সব মিলিয়ে কাতারের ওপর ইসরায়েলি হামলা শুধু দেশটির জন্য নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা প্রমাণ করেছে—ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হলে কোনো দেশকেই রক্ষা করতে সামনে আসে না যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্ররা।

 

এই শাখার আরও খবর

ইসরায়েলের নির্বাচনে কে কী বললেন, আর ফলাফলে কার অবস্থান কোথায়?

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো দল বা জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে নেই। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন…

পাবনায় রাতের আঁধারে শ্রমিক লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : পাবনার আতাইকুলায় পুষ্পপাড়া হাটে গুলি করে শ্রমিক লীগ নেতাসহ দুজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে হাটের…

ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী ঘটতে যাচ্ছে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে এবং দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোতে কার প্রভাব কতটা থাকবে, এই প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখে একাধিক সাম্প্রতিক ঘটনাকে বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। তাঁর…

জাপানি ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা শেখাতে বাংলাদেশে নতুন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

জাপানে ও বাংলাদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহী তরুণদের জাপানি ভাষা শেখানো ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে জাপানের প্রতিষ্ঠান ওনোদেরা ইউজার রান এবং…

মেয়াদ শেষ হচ্ছে গঙ্গার পানি চুক্তির, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ঢাকা

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে যাওয়ায় ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তির আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন চুক্তি না হলে দেশে…

শেখ হাসিনার জাতিসংঘে চিঠি: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও অর্জনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত অসাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতিসংঘের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au