পাবনায় রাতের আঁধারে শ্রমিক লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : পাবনার আতাইকুলায় পুষ্পপাড়া হাটে গুলি করে শ্রমিক লীগ নেতাসহ দুজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে হাটের…
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে যাওয়ায় ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তির আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন চুক্তি না হলে দেশে মিঠাপানির সংকট আরও বাড়তে পারে এবং কয়েক কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ঢাকা। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন করা হয়। ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের কাছে এই পানি বণ্টন কার্যকর হয়। ব্যারাজটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত। তবে চুক্তিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নবায়নের কোনো বিধান নেই।
নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পানি বণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির চেয়ারম্যান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, নতুন পানি বণ্টনব্যবস্থা হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো তাতে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনের আওতাভুক্ত। কমিশনের সর্বশেষ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত মে মাসে। তবে মন্ত্রী পর্যায়ে সর্বশেষ নিশ্চিত বৈঠক হয়েছিল ২০২২ সালে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে এ পর্যায়ে বৈঠক হতে ১২ বছরের বিরতি ছিল।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে আলোচনা ও মতপার্থক্য চলে আসছে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তিও ২০১১ সাল থেকে ঝুলে রয়েছে।
পানিপ্রবাহ কমায় কৃষি ও জীবিকায় প্রভাব
গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও গ্রামীণ জীবিকায় প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বাংলাদেশের গঙ্গা নদী পদ্মা নামে পরিচিত। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শুষ্ক বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের সাবেক সদস্য মালিক ফিদা এ খান বলেছেন, ভারত নদীর উজানে অতিরিক্ত ব্যারাজ নির্মাণ করেছে। তাঁর মতে, নতুন পানি বণ্টন চুক্তি তৈরির সময় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পুরো গঙ্গা অববাহিকার পানিপ্রবাহ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বরেন্দ্র অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দারাও পদ্মার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ৭২ বছর বয়সী পুরোহিত বিকাশ সরেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বছরের প্রায় তিন মাস নদীতে পানির প্রবাহ খুবই কম থাকে, কোনো কোনো সময় তা প্রায় চোখে পড়ে না।
পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীতে মাছের পরিমাণ ও মাছ ধরার সুযোগ কমেছে। একই সঙ্গে ধান ও গমের মতো ফসলের উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি না পাওয়া কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুন্দরবনের মিঠাপানির উৎস নিয়েও উদ্বেগ
পরিবেশবাদী সংগঠন রিভারাইন পিপলের প্রতিনিধি শেখ রোকন সতর্ক করে বলেছেন, অতীতে পানি বণ্টন নিয়ে কার্যকর সমঝোতা না থাকার সময় অন্তত তিনটি নদী প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে গড়াই নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নদীটি সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে মিঠাপানি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির প্রবাহ কমে গেলে গড়াই নদীর পানিপ্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে সুন্দরবনের মিঠাপানির ভারসাম্য এবং নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত ৯৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার পরিবর্তে বর্তমানে প্রায় ৫৫০ বর্গকিলোমিটার জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রকল্পের আওতায় সেচসুবিধা পাওয়া এলাকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
পদ্মায় বাঁধ নির্মাণে ২৮০ কোটি ডলারের প্রকল্প
পানির সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার পদ্মা নদীতে বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। গত মে মাসে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮০ কোটি ডলার। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পানির সংকট কমানো। এতে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষম একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে নদীর পানিপ্রবাহ ও শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পানি বণ্টন চুক্তির গুরুত্ব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ এবং সুন্দরবনের মিঠাপানিনির্ভর পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
সূত্রঃ ua.news
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au