জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে অতিরঞ্জনের অভিযোগ তুলেছে একটি নিবন্ধ। এতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ইউনূস সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংস্থা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে প্রভাবিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে সংঘটিত আন্দোলন, শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উত্থাপন করেছে একটি নিবন্ধ। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ইউনূস সেন্টারের সক্রিয় ভূমিকা ও অর্থায়ন ছিল। প্রতিবেদনে আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের নেতৃত্বাধীন দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করায় পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা মাইকেল রুবিনও জাতিসংঘের কাছে নিহত ব্যক্তিদের সঠিক নাম প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিবন্ধটির দাবি, গত কয়েক মাস ধরে একদল সাংবাদিকের অনুসন্ধানে জাতিসংঘের প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়ায় ইউনূস সেন্টারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন প্রসিকিউশন দলের সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান সহসভাপতি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটি গোষ্ঠী খসড়া প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে অনুসন্ধানের নথি, প্রত্যক্ষ প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিবন্ধটিতে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
২০২৪ সালের আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করেন। পরে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে, ওই আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থী ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ ছিল না; বরং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষের পরিকল্পিত উদ্যোগের অংশ ছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, ড. ইউনূস, পাকিস্তান এবং জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল এবং তাঁর সরকারের নেওয়া বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে নিবন্ধটির লেখক দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বা প্রমাণ নিবন্ধটিতে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়নি। ফলে এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

জুলাই আন্দোলন। ছবিঃ সংগৃহীত
ইউনূস ও শেখ হাসিনার বিরোধের প্রসঙ্গ
নিবন্ধটিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের বিরোধের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ২০১১ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইউনূসের অপসারণের পর তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে বলে এতে দাবি করা হয়েছে।
লেখাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনূস সেন্টারের অর্থায়নে বিভিন্ন লবিং ও জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১৮ সাল থেকে সরকারবিরোধী তৎপরতা জোরদার করা হয়। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারকারী বিতর্কিত ব্যক্তিদের সহায়তা নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কথিত এই পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা পেয়ে ইউনূসকে নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
নিবন্ধটিতে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা প্রতিবেদন, আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অভিযোগ
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নিবন্ধটিতে আলাদা করে আলোচনা করা হয়েছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা মাইক বেনজ এবং সাংবাদিক টাকার কার্লসনের একটি পডকাস্টে আলোচিত বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইজারা দিতে কিংবা সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিতে শেখ হাসিনার অস্বীকৃতি তাঁর সরকারের পতনের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
নিবন্ধটিতে এই দাবিকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের কথিত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের সঙ্গে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের প্রশ্নের সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণ করে, এমন যাচাইযোগ্য নথি বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য এতে দেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে পদ্মা সেতু, জাপানের অর্থায়নে নির্মিত মেট্রোরেল, চীনের অর্থায়নে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল এবং দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণের মতো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে, এসব প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত করাও কথিত ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য ছিল।

জাতিসংঘ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়ন নিয়ে অভিযোগ
নিবন্ধটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির (এনইডি) অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। লেখাটিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে সমালোচকদের দৃষ্টিতে সিআইএর পরোক্ষ সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের কথিত প্রচেষ্টায় অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউএসএআইডি ও ব্র্যাকের মধ্যে বাংলাদেশ-আমেরিকা ফ্রেন্ডশিপ উদ্যোগে পাঁচ বছরে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগের একটি চুক্তি হয়েছিল। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রামীণ আমেরিকার মধ্যেও একটি চুক্তি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
নিবন্ধটির অভিযোগ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মী, র্যাপ সংগীতশিল্পী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এসব অর্থায়ন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা।
তবে এসব অর্থায়ন ও চুক্তির সঙ্গে সরকার পতনের কথিত পরিকল্পনার সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণের মতো নথি নিবন্ধটিতে উপস্থাপন করা হয়নি। উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবাধিকার কিংবা সামাজিক উদ্যোগে কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন থাকলেই তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হয়ে যায় না। এ ধরনের অভিযোগ যাচাই করতে অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
পাঠ্যবইয়ের ‘শরীফ-শরীফা’ গল্প ঘিরে বিতর্ক
২০২৪ সালের শুরুতে সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে থাকা ‘শরীফ-শরীফা’ গল্প নিয়ে বিতর্কের ঘটনাও নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মাহতাব প্রকাশ্যে পাঠ্যবইয়ের ওই গল্পসংবলিত কয়েকটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন। পরে হো চি মিন ইসলাম ও তাসনুভা আনান শিশিরসহ কয়েকজন আলোচনায় আসেন।
নিবন্ধটির দাবি, বন্ধুসোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামের একটি সংগঠন সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে গল্পটি অন্তর্ভুক্ত করার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং সংগঠনটি আইআরআইয়ের অর্থায়ন পেত। লেখক আরও অভিযোগ করেছেন, গল্পটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সেটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বিতর্ক সৃষ্টি করা একই বিদেশি অর্থায়নভিত্তিক কৌশলের পৃথক অংশ ছিল।
এ ছাড়া ২০২০ সালে বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডারদের নৃত্য উৎসবের জন্য তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন ২৭ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিল বলেও নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে। তবে এই অনুদানের প্রকৃতি, অর্থের ব্যবহার কিংবা ২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে এর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রমাণ লেখাটিতে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়নি।
সংগীত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে দাবি
নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় তরুণদের সংগঠিত করতে র্যাপ সংগীত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছিল। হান্নানের ‘আওয়াজ উঠা’, সেজানের ‘কথা কও’ এবং তৌফিকের ‘এ দায় কার’ গানগুলো ইউএসএআইডি ও আইআরআইয়ের নির্দিষ্ট অর্থায়নে তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সালমান মুক্তাদিরের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত ব্যক্তিদের কিশোরদের মধ্যে সরকারবিরোধী মনোভাব উসকে দিতে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের আন্দোলনে অংশগ্রহণকেও পরিকল্পিত জনমত তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তবে গানগুলোর অর্থায়ন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি কিংবা তাঁদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনার সরাসরি যোগসূত্রের পক্ষে যাচাইযোগ্য তথ্য নিবন্ধটিতে দেওয়া হয়নি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়াকে এককভাবে কোনো গোপন পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল ইসলামপন্থী দল জামায়াত। ছবিঃ সংগৃহীত
জামায়াত, ছাত্রশিবির ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
নিবন্ধটিতে ২০২৪ সালের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনের একপর্যায়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বের ভূমিকা নেন। পরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২৬ জন শিক্ষক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন দেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইউনূসের রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর গঠিত নাগরিক ছাত্রশক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বলে নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে। ২০১৯-২০ সালে আইআরআই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এবং বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিল বলেও এতে উল্লেখ রয়েছে।
নিবন্ধটিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জামায়াতের সশস্ত্র কর্মী, সাবেক সামরিক সদস্যদের নিয়ে গঠিত গোষ্ঠী এবং বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চালায়। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার বড় অপরাধীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযুক্তদের পরিচয় কিংবা আদালতের নথি নিবন্ধটিতে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।
ম্যানিলায় সম্মেলনকে ঘিরে প্রশ্ন
নিবন্ধটিতে ২০২৪ সালের ২৭ ও ২৮ জুন ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত সোশ্যাল বিজনেস ডে সম্মেলনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনূস সেন্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ কয়েকজন ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন বলে এতে বলা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন লামিয়া মোরশেদ, আসিফ নজরুল, ফরিদা আখতার, দৃক গ্যালারির শহিদুল আলম এবং গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আবদুল হান্নান। নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে, সম্মেলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হন।
আন্দোলন জোরালো হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়াকে নিবন্ধটির লেখক কথিত পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সম্মেলনে অংশগ্রহণের তথ্যের সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনার সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার মতো প্রমাণ এতে দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া ২০২১ সালে ইউএসএআইডি কয়েকজন বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে অপতথ্য মোকাবিলা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল বলে নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেনও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই প্রশিক্ষণের সঙ্গে ২০২৪ সালের আন্দোলন বা সরকার পরিবর্তনের কথিত পরিকল্পনার সম্পর্ক কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
নিহতের সংখ্যা ও প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্ক
নিবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন। লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা উচিত।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ