হোয়াইট হাউস থেকে ‘দ্য চার্লি কার্ক শো’-এর একটি পর্ব উপস্থাপন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর – যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, চার্লি কার্কের মৃত্যু উদ্যাপনকারীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। সোমবার স্থানীয় সময় দ্য চার্লি কার্ক শো–এর একটি পর্বে অতিথি উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভ্যান্স বলেন, “তাঁদের প্রকাশ্যে সমালোচনা করুন, আর নিয়োগকর্তাকেও জানান। সভ্য আচরণের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। কিন্তু আমরা রাজনৈতিক সহিংসতাকে সমর্থন করি না।”
চার্লি কার্কের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য অপ্রীতিকর পোস্ট ছড়িয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন পাইলট, চিকিৎসক, শিক্ষক ও গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মী ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত বা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। সমালোচকেরা বলছেন, এ ধরনের বরখাস্ত বাক্স্বাধীনতা ও কর্মীদের সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তবে আইন অনুযায়ী মার্কিন কোম্পানিগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের ব্যাপারে ব্যাপক স্বাধীনতা রয়েছে।
গত বুধবার ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে এক বিতর্ক অনুষ্ঠান চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান চার্লি কার্ক। গুলি তাঁর ঘাড়ে লেগেছিল। মৃত্যুর আগে প্রতিদিন তিনি নিজেই দ্য চার্লি কার্ক শো উপস্থাপনা করতেন।
ভ্যান্স সোমবারের পডকাস্টে বলেন, “আমেরিকার বামপন্থীরা রাজনৈতিক সহিংসতা সমর্থন ও উদ্যাপনের প্রবণতায় বেশি ঝুঁকে আছে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড উদ্যাপনে কোনো শালীনতা নেই।”
সাম্প্রতিক ইউগভ জরিপেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে উদারপন্থীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মৃত্যুকে রক্ষণশীলদের তুলনায় বেশি “স্বাভাবিক” হিসেবে দেখে।
ভ্যান্সের মন্তব্যের পাশাপাশি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও একই সুরে কথা বলছেন। ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন এক্স-এ লিখেছেন, “আমি তাঁদের বরখাস্ত, অর্থায়ন বন্ধ ও লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাব। এ ধরনের মানুষকে সভ্য সমাজ থেকে বিতাড়িত করা উচিত।”
চার্লি কার্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল যুব সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ–এর প্রতিষ্ঠাতা। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১২ সালে এ সংগঠন গড়ে তোলেন তিনি। পরে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হন।
এদিকে কার্ককে হত্যার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী টাইলার রবিনসনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁর বাবা ও এক বন্ধুর সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার রাতে রবিনসনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
সূত্রঃ বিবিসি