নতুন আক্রমণের অংশ হিসেবে আইডিএফ গাজা শহরে স্থল বাহিনী পাঠিয়েছে। ছবিঃ আইডিএফ/এক্স
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটিতে প্রবেশ করে হামাসের ঘাঁটি ধ্বংস ও এলাকা দখলের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান শুরু করেছে বলে অ্যাক্সিওস ও সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র স্থানীয় সময় সোমবার রাতে জানায়, গাজা সিটিতে তাদের বিস্তৃত সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। এ সময় গাজার বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরে যেতে সতর্ক করা হয়। আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “গাজার নাগরিকরা, আইডিএফ গাজা সিটিতে হামাসের অবকাঠামো ধ্বংস করা শুরু করেছে।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে এটিকে “গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে এক মাস ধরে গাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করেছিল ইসরায়েল। তবে দক্ষিণ গাজায় অতিরিক্ত ভিড় ও পরিবহনের উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে সরে যেতে পারেননি।
গত কয়েকদিন ধরে গাজায় টানা বিমান হামলা চালানোর পর এই স্থল অভিযান শুরু হলো। মঙ্গলবার গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলার খবর দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “গাজা জ্বলছে।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল থেকে কাতার যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের হাতে খুব অল্প সময় আছে। মাস নয়, হয়তো দিন বা কয়েক সপ্তাহ। তাই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”
শিফা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতের বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. রামি মেহান্না জানিয়েছেন, গত ছয় ঘণ্টায় সেখানে ৯০ জনের বেশি আহতকে আনা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ইসরায়েল কাতারে অবস্থানরত হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক তৎপরতা আরও বিস্তৃত করে ইসরায়েল। গত মাসেই প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গাজা সিটিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শিগগিরই শুরু হবে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর আইডিএফের সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনার পর গাজার মাত্র ১০ শতাংশের কিছু বেশি এলাকা এ ধরনের নির্দেশনার বাইরে ছিল। এখন পূর্ণাঙ্গ দখল অভিযান শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সুত্রঃ সিএনএন