জরুরি রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে এআই
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর- জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল। দুই বছরের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও, লক্ষ্য করে হত্যা করছে এবং খাদ্য, পানি ও ওষুধ বন্ধ করে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংসের উদ্দেশ্যে জীবন-সংহারী পরিস্থিতি তৈরি করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য যত বেশি সম্ভব ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা। এই কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান নাভি পিল্লাই বলেছেন, “আজ আমরা বাস্তব সময়ে দেখছি কিভাবে ‘আর কখনও নয়’ প্রতিশ্রুতি ভেঙে যাচ্ছে। গাজায় চলমান গণহত্যা নৈতিক ক্ষোভ এবং আইনি জরুরি অবস্থা তৈরি করেছে।”

গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখনও মারাত্মক। ছবিঃ রয়টার্স
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনের পাঁচটির মধ্যে চারটি শর্ত পূরণ করেছে—গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর ক্ষতি করা, জীবনযাপনের এমন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়া যা ধ্বংস ডেকে আনে, এবং জন্ম প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্য ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা উসকে দিয়েছে এবং সেনাদের কাছে তা ধ্বংসের নির্দেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কমিশনের ভাষায়, “ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডের ধরন দেখে একমাত্র যুক্তিযুক্ত উপসংহার হলো—গণহত্যার উদ্দেশ্যই প্রধান লক্ষ্য।”

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান।
ইসরায়েল অবশ্য এই প্রতিবেদনকে “বিকৃত ও মিথ্যা” আখ্যা দিয়ে কমিশন বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, গাজায় ‘ক্ষুধা নেই’, তবে কয়েক মাস অবরোধের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সহায়তা বিমান থেকে ফেলা পুনরায় শুরু করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় সহায়তার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে ইসরায়েল ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলে, যা কেবল খাদ্য বিতরণ করে এবং এর কেন্দ্রগুলো সেনানিবাস এলাকায় হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে খাদ্যে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এতে স্পষ্ট যে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাধারণ মানুষকে আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে রাখতে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে নেওয়ার সময়ও বেসামরিক লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে গাজাকে “এই শতাব্দীর যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আলাদা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

গাজায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২৮ শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। ছবিঃ সংগৃহীত
জাতিসংঘের এই কমিশন বিশ্বকে আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলকে কোনো অস্ত্র বা সরঞ্জাম সরবরাহ না করতে, যা গণহত্যায় ব্যবহৃত হতে পারে। পাশাপাশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রগুলোকে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বলা হয়েছে।
তবে এই প্রতিবেদন আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে বেশ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং বলেছেন, তার দেশ আগেই ইসরায়েলের সহায়তা প্রত্যাখ্যান এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তিনি পুনরায় গাজায় যুদ্ধবিরতি ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান জানান।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au