তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান চীনের
মেলবোর্ন,২ জুলাই- তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- লোহার ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়া জনতার ঢল, ভাঙচুর হওয়া প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, কাদামাখা পায়ে ভরে যাওয়া করিডর—দৃশ্যগুলো শুধু নেপালের সাম্প্রতিক সময়ের নয়, এগুলো শ্রীলঙ্কার ২০২২ এবং বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রতিচ্ছবিও বটে।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশগুলোতে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন–জি, বারবার দেখিয়ে দিয়েছে—প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আস্থা হারালে তারা নিজেরাই পরিবর্তনের পথে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী পল স্ট্যানিল্যান্ড আল–জাজিরাকে বলেন, “এখানে নতুন ধরনের অস্থির রাজনীতির জন্ম হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলনের সাক্ষী হলেও সরকার পতন ছিল বিরল।”
নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল সাম্প্রতিক আন্দোলনের সূচনা। তবে এর গভীরে ছিল বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ক্ষোভ। তিন দিনের বিক্ষোভে প্রাণ হারায় ৭০ জনের বেশি। পরে প্রায় ১০ হাজার তরুণ–তরুণী অনলাইনে, বার্তা আদান–প্রদানের প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডে ভোট দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বেছে নেন।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন রূপ নেয় শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের শাসনের বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানে। সহিংস দমন–পীড়ন, ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া—সব মিলিয়ে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন।
শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের ‘আরাগালায়া’ আন্দোলন শুরু হয়েছিল অর্থনৈতিক পতন ও ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির কারণে। তরুণরা প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে কলম্বোতে গড়ে তোলে ‘গোতাগোগামা’। ক্রমে আন্দোলন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
এইচআরডব্লিউ–এর দক্ষিণ এশিয়ার উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “তিন দেশের আন্দোলনের মূল কারণ এক—দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি, যারা তরুণ প্রজন্মের বাস্তব চাহিদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।”
এই প্রজন্ম দুইবার বৈশ্বিক মন্দা, কোভিড–১৯ মহামারি এবং ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় হয়েছে। অথচ তখন তাদের শাসন করেছেন ৭০–এর কোঠায় থাকা প্রবীণ নেতারা। বিলাসবহুল জীবনযাত্রা আর তরুণদের সীমিত সুযোগের বিশাল ব্যবধান ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।
তরুণরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আন্দোলনের হাতিয়ার বানিয়েছে। হ্যাশট্যাগ প্রচার, বিকেন্দ্রীকৃত সংগঠন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বহীন কাঠামো—এসবই নতুন ধরনের আন্দোলনের কৌশল। সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার চেষ্টা করলেও তা উল্টো ক্ষোভকে উস্কে দিয়েছে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুমেলা সেন বলেন, “তাদের ক্ষোভ সত্যিকারের। ন্যায়বিচার, ভবিষ্যৎ আর চাকরির দাবিই আন্দোলনের শক্তি। প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতায় তারা অভিজাত রাজনৈতিক শ্রেণিকে অনেকখানি ছাড়িয়ে গেছে।”
রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানী জীবন শর্মা মনে করেন, নেপালের তরুণরা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের আন্দোলন। অন্যদিকে এ আন্দোলনগুলো থেকেও ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের তরুণ নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের শিক্ষা নেওয়া হয়েছে।
স্ট্যানিল্যান্ডও বলেন, “এসব আন্দোলন একে অন্যকে পর্যবেক্ষণ করছে, অনুপ্রাণিত হচ্ছে ও শিক্ষা নিচ্ছে।”
প্রশ্ন রয়ে যায়,
শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের তরুণদের নেতৃত্বে সরকার পতন ঘটেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি ছিল রাজনৈতিক হতাশা, অর্থনৈতিক সংকট ও বৈষম্যের প্রতিবাদ।
সুত্রঃ আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au