সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ছবি: এক্স
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাতে বলা হয়েছে—যে কোনো এক দেশের ওপর আগ্রাসন চালানো হলে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে। সেই পরিস্থিতিতে দুই দেশ পরস্পরকে রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
বুধবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রিয়াদের আল-ইয়ামামা প্রাসাদে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভ্রাতৃত্ব, ইসলামি সংহতি ও অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে এবং প্রায় আট দশকের দীর্ঘ অংশীদারত্বের ওপর দাঁড়িয়ে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা একে মুসলিম বিশ্বের জন্য ‘ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন অগ্রগতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক এখন আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিতে রূপ নিল, যা শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই দৃঢ় করছে না, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও আরব বিশ্বের ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক দোহা হামলার পর এই চুক্তির তাৎপর্য আরও বেড়ে গেছে।
শাহবাজ শরিফ উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য সৌদি যুবরাজকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজের সুস্বাস্থ্য এবং সৌদি জনগণের সমৃদ্ধি কামনা করেন। একইভাবে সৌদি বাদশাহও পাকিস্তানের জনগণের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ ও অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব উপস্থিত ছিলেন।