ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কাতারের দোহার একটি ভবন। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কাতার। এ লক্ষ্যে দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-খুলাইফি গত বুধবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তমুকো আকানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকের পর আল-খুলাইফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দ্য হেগ সফরটি আইনি পথ খুঁজে দেখার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত দলের কাজের অংশ। তিনি জানান, কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলের অবৈধ সশস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত বছর গাজায় বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা ও দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসিতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়। ওই বছরের নভেম্বরে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
অন্যদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলো বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দোহায় অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে ছয় সদস্যের এ জোট এই সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালায়। ওই সময় হামাসের শীর্ষ নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। তবে সংগঠনটি জানায়, শীর্ষ কোনো নেতা নিহত হননি।
এদিকে গাজা সিটিতে কয়েক দিন ধরে সর্বাত্মক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানও চলছে। এর ফলে গাজা সিটি থেকে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি দক্ষিণের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে পায়ে হেঁটে, আবার কেউ যানবাহন ও গাধায় টানা গাড়িতে এলাকা ছাড়ছেন।
ইসরায়েলের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ফিলিস্তিনি গাজা সিটি ছেড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক হামলার আগে শহরটিতে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন, যাঁদের অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়ে এখানে এসেছিলেন।
সুত্রঃ আল জাজিরা