আবারও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাও
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আবারও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেছে একটি সংগঠন। শনিবার ‘বঙ্গসেনা’ নামের সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে…
মেলবোর্ন, ২২ সেপ্টেম্বর– যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা রবিবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সূত্রে জানা যায়, ফ্রান্সসহ আর কয়েকটি দেশেরও অদূর ভবিষ্যতে একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থাকে — এই স্বীকৃতির বাস্তব প্রভাব কোথায়, এবং এতে আসলে কী কী পরিবর্তন হবে?
স্বীকৃতির অর্থ কী?
ফিলিস্তিন একরকম “আধা-রাষ্ট্র” — আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার স্বীকৃতি অনেক, বিদেশে কূটনৈতিক মিশন রয়েছে, এবং অলিম্পিকসহ ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ করে। তবে বাস্তবে—ইন্তেজাম ও নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে—পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকা জুড়ে তার কোনো সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র সীমান্ত, স্থায়ী রাজধানী বা একটি পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী নেই। গাজায় ২০০৭ সাল থেকে হামাস এককভাবে শাসন করছে। সেই কারণে কোনো দেশের স্বীকৃতি এখন মূলত প্রতীকী ও নৈতিক বলে ধরা হচ্ছে — তা আন্তর্জাতিকভাবে বড় রাজনৈতিক সংকেত পাঠায়, কিন্তু প্রতিদিনের বাস্তব জীবনে তা তাত্ক্ষণিক বড় পরিবর্তন ঘটাবে না।
তা হলে কী প্রভাব পড়তে পারে?
প্রতীকী গুরুত্ব অনেক, কিন্তু কার্যকর প্রভাব সীমিত। তবু কিছু বাস্তব দিয়ে দেখা গেছে যে:
১৯৩টি জাতিসংঘ সদস্যদের প্রায় ৭৫ শতাংশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে; ১৯৮৮ সালে চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন আংশিক সমর্থন সত্ত্বেও (প্রধানত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কারণে) সরাসরি পূর্ণ স্বীকৃতির পক্ষে ছিল না—বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আমেরিকার নীতি ইসরায়েল-মোদী হয়ে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক কালে জনমত ও গাজার মানবিক চিত্রের কারণে পশ্চিমা দেশে নীতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের স্বীকৃতি হামাসকে উৎসাহ দিতে পারে — এবং তাই ক্ষতিকর। মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা বিরোধী ছিলেন, তারা স্বীকার করেছেন যে এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে এবং দ্বিপক্ষীয় শান্তি উদ্যোগকে ক্ষুন্ন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা সতর্কভাবেই বলছেন, এককভাবে বা শুধুই প্রতীকী কারণে করলে শান্তিচুক্তি প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রধান পরিণতি এখনই রাজনৈতিক ও নৈতিক: এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনের অবস্থান দৃঢ় করে, পাকিস্তানীয়/আরব বিশ্বের এবং বৃহৎ জনমতের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা—সীমান্ত, দখল, সরকারের কার্যক্ষমতা—বর্তমানেই একরকম অপরিবর্তিত থেকেই যাবে, যতদিন না ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও সম্মিলিত শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত হয়।
সুত্রঃবিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au