ইউরোপে তাপপ্রবাহজনিত কারণে ১৩০০ মৃত্যু: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ইউরোপে এবার গ্রীষ্মের শুরুতেই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান…
মেলবোর্ন,১০ অক্টোবর- অর্থের ঘাটতির কারণে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকোচন আনছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান ৯টি শান্তিরক্ষা অভিযানে প্রায় এক-চতুর্থাংশ সেনা ও পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে।
বুধবার জাতিসংঘের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, তহবিল ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত অর্থায়নের কারণে সংস্থাটির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“সামগ্রিকভাবে আমাদের মোট শান্তিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ২৫ শতাংশ সেনা ও পুলিশ সদস্যকে সরঞ্জামসহ নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।”
তিনি আরও জানান, এই সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার শান্তিরক্ষীর সমান। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন মিশনে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক কর্মীও এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে পড়বেন।
জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা যুক্তরাষ্ট্র, যা মোট শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২৬ শতাংশ বহন করে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের অবদান ২৪ শতাংশের মতো। এসব অর্থ প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া বর্তমানে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মিশন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাঠানো এক বার্তায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের শান্তিরক্ষা তহবিল একতরফাভাবে বাতিল করেন।
এছাড়া, হোয়াইট হাউসের বাজেট অফিস ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অর্থায়ন সম্পূর্ণ বন্ধের প্রস্তাবও দিয়েছে।
তাদের যুক্তি, মালি, লেবানন ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম কার্যকর ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
জাতিসংঘের যে নয়টি শান্তিরক্ষা মিশন এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসবে, সেগুলো হলো—
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সংস্থার ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে ব্যয় সংকোচন ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংস্থাটিকে টিকিয়ে রাখতে সংস্কার ও আর্থিক স্বনির্ভরতা এখন সময়ের দাবি।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জাতিসংঘের ইতিহাসে এটি হবে শান্তিরক্ষা মিশনের সবচেয়ে বড় আকারের জনবল ছাঁটাই — যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au