‘কয়লা ও বয়লার সমস্যায় দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, এ কারণে লোডশেডিং’
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দুইটি পাওয়ার স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট…
মেলবোর্ন,১০ অক্টোবর- আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক সফরে ভারতের রাজধানী নিউ দিল্লি পৌঁছেছেন। এটি ২০২১ সালের পর থেকে তালেবানের একটি শীর্ষস্থানীয় নেতা কর্তৃক ভারত সফরের প্রথম ঘটনা।
এই সফর কেবলমাত্র দু’দেশের সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নয় — পাশাপাশি এটি পাকিস্তানকে ঘিরে রাজনৈতিক আবহনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুত্তাকিরি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মণ্য গাইশঙ্কর ও অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবেন।
আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, রফতানি–আমদানি, স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা, কনস্যুলার সেবা, এবং বন্দর ও অবকাঠামো সংযোগ।ভারত এখনও তালেবান সরকারের সরকারসত্ত্ব স্বীকার করেনি, তবে সীমিত কূটনৈতিক মিশন ও কিছু মানবিক প্রকল্পের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
মুত্তাকির সফর সম্ভব হয়েছে কারণ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক কমিটি তাঁকে অস্থায়ীভাবে ভ্রমণ ছাড়পত্র দিয়েছে, যা তার বিদেশ সফরকে আইনি বাধা থেকে মুক্ত করেছে।
ভারতের সঙ্গে তালেবানের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে পাকিস্তান–আফগানিস্তান–ভারত (PAK-AFG-IND) দৃষ্টিকোণ থেকে ভারসাম্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দেবে।বিশেষ করে, সংবাদমাধ্যম কিছু বিশ্লেষণে বলেছে যে আফগানিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানের ভূমিকা কমিয়ে, তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নিতে চাইছে — “প্যাক হাইন্ডারেন্স” কাটিয়ে নতুন কৌশল তৈরি করার একটি চেষ্টার অংশ।
ভারতের সম্প্রসারণমূলক পরিকল্পনা যেমন চাবাহার বন্দরের ব্যবহার — যা ভারতকে পাকিস্তানের বন্দরের উপর নির্ভরতাকে হ্রাস করতে সহায়তা করে — আরও সুদৃঢ় হতে পারে।
পাকিস্তান ভূখণ্ড থেকে আফগানিস্তানে নিরাপত্তা অভিযানের অভিযোগ প্রায়ই করে; ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগে পাকিস্তানের অবস্থা সন্দেহভাজন হয়ে ওঠতে পারে।
সংবাদমাধ্যমে একটি হিন্দি পত্রিকা দাবি করেছে, মুত্তাকির সফরের সময় তালেবান “পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভরোসাপূর্ণ ভাষ্য” দেবে — অর্থাৎ পাকিস্তান থেকে কোনো ধরনের এই বা সহায়ক কার্যকলাপ হবে না বলে আশ্বাস দেবে।
তালেবান বিদেশমন্ত্রীর ভারত সফর একটি কূটনৈতিক দৃষ্টান্তিক পদক্ষেপ, যা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক কূটনৈতিক চিত্রকেই পরিবর্তনের প্রস্তাব বহন করে। এই সফর ভারতের আফগান নীতিতে একটি মাইলস্টোন হতে পারে — তবে এর সফলতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক উদ্যোগ, সুরক্ষা আশ্বাস ও পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ার সক্ষমতার ওপর।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au