মেলবোর্ন, ১০ অক্টোবর- দীর্ঘ সংঘাত ও সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধের পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এখন হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা। দুই দেশই মনে করে, হামাসের সামরিক ক্ষমতা যত দিন অক্ষুণ্ন থাকবে, তত দিন স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, হামাস শুধু ইসরায়েলের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তারা বলছে, গাজা থেকে রকেট হামলা ও সীমান্তপারের অভিযান ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বারবার বিপর্যস্ত করেছে। তাই সংগঠনটিকে অস্ত্রবিহীন করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হামাসকে নিরস্ত্র করা “দুই রাষ্ট্র সমাধান” বাস্তবায়নের একটি অপরিহার্য ধাপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “যত দিন হামাস সশস্ত্র থাকবে, তত দিন ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য আসবে না এবং রাজনৈতিক সমাধান এগোবে না।”
ওয়াশিংটনের ধারণা, হামাসকে নিরস্ত্র করলে গাজায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা সহজ হবে, যেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এবং আরব দেশগুলোর যৌথ অংশগ্রহণ থাকবে। এই লক্ষ্যেই সম্প্রতি ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মতে, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করা বাস্তবে কঠিন কাজ। সংগঠনটির শিকড় গভীরে প্রোথিত, তাদের কাছে বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার ও ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। এছাড়া হামাসকে সামরিকভাবে দুর্বল করা হলেও তাদের রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি বিলোপ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, হামাসকে নিরস্ত্র করার এই প্রচেষ্টা শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পুনর্গঠনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তবে এই প্রক্রিয়া সফল করতে হলে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আরব দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।