মেলবোর্ন, ১৭ অক্টোবর- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কিছু শিক্ষক এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা হিন্দু শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন ও পরিচয় প্রকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
হিন্দু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগে পূজার ছুটির দিনগুলিতে ক্লাস ও পরীক্ষা নির্ধারণ করা হয়, যা তাদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগকে সংকুচিত করেছে।
কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হলেও, তাতে সাড়া মেলেনি বা “একাডেমিক স্বার্থে” বলে বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক অনুমতি পেতে নানান জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা চাইনি কোনো বিশেষ সুবিধা শুধু চাই, আমাদের ধর্মীয় অধিকার যেন সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু প্রতি বছরই পূজার সময় ক্লাস ও পরীক্ষা পড়ে যায়, আর প্রশাসন বলে দেয় কিছু করার নেই। এটা কি ধর্মীয় স্বাধীনতা?”
আরেকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন,
“কিছু শিক্ষক ও কর্মচারী আমাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ঠাট্টা করেন, হিন্দু ধর্মকে ‘পুরোনো কুসংস্কার’ বলে মন্তব্য করেন। আমরা অভিযোগ করলেও প্রশাসন বলে এগুলো নাকি ‘ব্যক্তিগত মতামত’।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর স্বাধীনতা হরণ করি না। একাডেমিক ক্যালেন্ডারের কারণে অনেক সময় তারিখ মিলে যায়, তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।”
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই যুক্তি তাদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না। তারা লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ধর্মীয় নিপীড়ন ও বৈষম্যের অভিযোগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিভিন্ন জেলায় হিন্দু মন্দির, বাড়িঘর ও পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সংখ্যালঘুরা অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না।
জবি’র হিন্দু শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেনঃ
- ধর্মীয় উৎসবের সময় একাডেমিক কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করা,
- বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিধি কার্যকর করা,
- শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের মধ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
একজন চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা জবির ছাত্র, বাংলাদেশি নাগরিক। আমাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে যেন কেউ বৈষম্যের শিকার না হই- এটুকুই চাই।”
আন্দোলনের মুখে কালী পূজার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে তাদেরকে পূজা পালনের জন্য মৌখিক সম্মতি দিয়েছিলাম, এটা সত্য। কিন্তু আসন্ন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও জকসুকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে কোনোরূপ বিশৃঙ্খলা যেন সৃষ্টি না হয়, সেদিকে আমরা সচেষ্ট।
“পরদিন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি নিতে আসলে তাদেরকে আমরা বুঝিয়ে বলেছিলাম এই বছরটা শুধু স্কিপ করতে, তারা এতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছিল; পরে আবার কী হলো জানিনা। যদি তখন তারা সম্মত না হত, তাহলে হয়তো কালী পূজার অনুমতি পেত। এখন আর সেই সুযোগ নাই।”