বুধবার রাত্রে রাজধানী লিমা এবং অন্যান্য শহরে সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভে নামেন হাজার হাজার তরুণ। ছবি- এএফপি
মেলবোর্ন, ১৭ অক্টোবর- পেরুর রাজধানী লিমাসহ বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি -এর পদত্যাগের দাবিতে চলমান এই আন্দোলন দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে হাজারো মানুষ প্রেসিডেন্ট জেরির পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভকারীরা রাজধানী লিমার প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে রাখেন এবং সরকারি ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন।
সংঘর্ষে অন্তত একজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তির নাম এডুয়ার্দো রুইজ (৩২), যিনি স্থানীয়ভাবে সংগীতশিল্পী ও সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সরকারি হিসাবে, অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৫ জন পুলিশ সদস্য এবং ২০ জন বেসামরিক নাগরিক।
বিক্ষোভে কয়েকটি যানবাহন ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি নিহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন,“আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সম্মান করি, কিন্তু সহিংসতা কখনোই সমাধান হতে পারে না। যারা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা জনগণের শত্রু।”
তবে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে।
হোসে জেরি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধীদের দাবি, তিনি “পুরনো দুর্নীতিবাদী চক্রের প্রতিনিধি” হিসেবে কাজ করছেন।
গত কয়েক বছরে পেরুতে একের পর এক প্রেসিডেন্ট অপসারণ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরেই সাবেক প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তে-কে অভিশংসনের পর জোসে জেরি ক্ষমতায় আসেন, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও গভীর করেছে।
সুত্রঃ এএফপি